শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ঢাকা

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় সিলেট

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট
প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

শেয়ার করুন:

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় সিলেট

সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান ও সিলেটের জামাইকে বরণ করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

তারেক রহমানের সফর ঘিরে সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই এবং সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেছে।


বিজ্ঞাপন


নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে দিন-রাত সমানতালে চলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় নতুন করে সাজসজ্জার কাজ করা হয়। নগর ভবনে তৈরি করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধন কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন।

pm-2প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের প্রতিটি কর্মসূচির স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে স্বাগত ব্যানার, আলোকসজ্জা এবং দলীয় কর্মসূচির কারণে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাগত মিছিলও বের করা হচ্ছে।

সফরসূচি


বিজ্ঞাপন


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।

pm-3

বেলা ১১টায় নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুরমা নদীকেন্দ্রিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্লুইসগেট স্থাপন এবং নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসিয়া খাল (বাসিয়া নদী) খননকাজের উদ্বোধন করবেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে এই খাল উদ্বোধন করেছিলেন।

pm-4বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করবেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট নগরকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীকেন্দ্রিক একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ওয়াকওয়ে, নদীতীর সৌন্দর্যবর্ধন, স্লুইসগেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মূলত খেলাধুলা উদ্বোধন করতে সিলেটে আসছেন। পাশাপাশি বাসিয়া নদীর পুনঃখনন এবং সিটি করপোরেশনের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বক্তব্য দেবেন সুধী সমাবেশেও। প্রবাসীদের জন্য ওভারসিজ সেন্টার ও প্রবাসী কল্যাণ ভবনের উদ্বোধনও তার কর্মসূচিতে রয়েছে। সব ভেন্যুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিবি, সিটিএসবি সহ একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ভিভিআইপি নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত রুট ও ভেন্যুর ৫০০ মিটার পরিধি এবং দুই কিলোমিটার উচ্চতায় ড্রোন ও উড্ডয়ন যান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

pm-5নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর ঘিরে পুরো নগরজুড়ে একধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসবিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে নগরী। এই সফরকে সামনে রেখে প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। বেশ কয়েকটি প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সিলেট নগরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। রাস্তা মেরামত, সড়কের পাশে গাছপালা ছাঁটাই, সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। সিলেট সিটি করপোরেশন অপ্রয়োজনীয় ব্যানার-ফেস্টুন এরই মধ্যে অপসারণ করেছে।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর