শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

রহস্য উন্মোচন

চকলেটের প্রলোভনে শিশু আইরিনকে ডেকে নিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৩

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর 
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

চকলেটের প্রলোভনে শিশু আইরিনকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয় দিন পর সাত বছরের শিশু আইরিনের গলিত মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘাতকরা শিশুটিকে চকলেট ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে।

শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টায় কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন।


বিজ্ঞাপন


নিহত আইরিন স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ৩০ এপ্রিল সকালে একটি কলাবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। 

তারা হলেন ইসরাফিল মৃধা (২৪); শেখ আমিন (১৯); নাছিমা বেগম (৪৫)। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, ইসরাফিল মৃধা চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে এবং শিশুটি বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ লুকানোর উদ্দেশ্যে পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।


বিজ্ঞাপন


পরবর্তীতে নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে লাশটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তারা ট্যাংক থেকে লাশ তুলে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন একটি কলাবাগানে ফেলে দিয়ে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানাসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৮৪) দায়ের করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর