চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানদের দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খাদিমপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে পরিষদে এসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলে স্থানীয় কিছু লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিষদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ফেলে যাওয়া কয়েকটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করে বলেন, তিনি নিয়মিত অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় কিছু লোকজন এসে তাকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং তাকে কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে একই উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকেও তাদের নিজ নিজ পরিষদ থেকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে সেখানেও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তাকে পুনরায় পরিষদে বসে দাফতরিক কাজ পরিচালনার অনুমতি দেন।
বিজ্ঞাপন
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনাগুলোর খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খাদিমপুরের ঘটনায় জসিম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এছাড়াও হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা, খাসকররা ও ডাউকি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরাও নিজ নিজ পরিষদে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরআর




