ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজারে বিল্লাল হোসেন (৪৫) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের পরানগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ‘রুমি এন্ড রুমান স্বর্ণ শিল্পালয়’ নামের দোকানের সামনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অজিউল্ল্যাহ মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ওই বাজারে স্বর্ণ ব্যবসা করে আসছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগ নিয়ে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার জমা রেখে নগদ টাকা প্রদান করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি গ্রাহকরা টাকা পরিশোধ করে তাদের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে বুধবার দুপুরে দোকান খোলা রেখেই তিনি গা-ঢাকা দেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গ্রাহকরা দোকানের সামনে ভিড় জমান এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের জমা রাখা স্বর্ণালংকারের পরিমাণ বিপুল, যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকারও বেশি। হঠাৎ করে ব্যবসায়ীর উধাও হয়ে যাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বলেন, “বিশ্বাসের জায়গা থেকে ১৪ আনা স্বর্ণ জমা রেখে ৩৮ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। তিন দিন আগে টাকা পরিশোধ করলেও তিনি স্বর্ণ ফেরত দেননি। এখন শুনছি তিনি পালিয়ে গেছেন।”
বিজ্ঞাপন
আরেক ভুক্তভোগী আল আমিন বলেন, “১২ আনা স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। এক সপ্তাহ আগে টাকা শোধ করলেও স্বর্ণ পাইনি।”
আসমা বেগম নামের আরেক নারী জানান, “৮ আনা স্বর্ণ বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। এক মাস আগে লাভসহ ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেও স্বর্ণ ফেরত পাইনি। এখন আমরা নিরুপায়।”
এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিনিধি/আরআর




