হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভৈরবীকোনা গ্রামের কৃষক মো. আরফান আলী আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে চিনা বাদাম চাষ করে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাড়ির পাশের প্রায় ৩৩ শতক জমিতে তিনি এই চাষাবাদ করে অল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বিজ্ঞাপন
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আরফান আলী আধুনিক পদ্ধতিতে চিনা বাদাম চাষ শুরু করেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে তিনি জমিতে বীজ রোপণ করেন। শুরু থেকেই কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী জমি প্রস্তুত, বীজ নির্বাচন এবং সার প্রয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব ধাপ অনুসরণ করেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই চাষাবাদে খুব বেশি পরিচর্যার প্রয়োজন হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং আধুনিক পদ্ধতির কারণে রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল তুলনামূলক কম। মাত্র ৪ হাজার টাকা খরচে সম্পন্ন হওয়া এই আবাদ এখন ফলনের মুখে। প্রায় ৬ মাস শেষে জমিতে চিনা বাদামের ভালো ফলন হয়েছে, যা বিক্রি করে প্রায় ৯০ হাজার টাকা আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষক আরফান আলী বলেন, আমি আগে প্রচলিত ফসলই বেশি চাষ করতাম। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে চিনা বাদাম চাষ শুরু করি। এত কম খরচে এত বেশি লাভ হবে, তা আগে কল্পনাও করিনি। এখন আমি খুবই খুশি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই চাষ করতে চাই।
বিজ্ঞাপন
তার এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক শামীম। তিনি নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেন। আরফান আলী তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, স্যার না থাকলে আমি হয়তো এই সফলতা পেতাম না।
একই এলাকার কৃষক আব্দুল মতিন, রেনু মিয়া ও সফি আলমও তার পরামর্শে চিনা বাদাম চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের জমিতেও ভালো ফলন হয়েছে, যা দেখে আশেপাশের কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামীমুল হক শামীম জানান, চিনা বাদাম একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল। সিলেট অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু এ ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় এখানে এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। কম খরচ, কম পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির সঠিক ব্যবহার এবং ফসলের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে চিনা বাদাম চাষ একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। এতে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, তেমনি দেশের তেল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যের চাহিদাও পূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সবমিলিয়ে, কৃষক আরফান আলীর এই উদ্যোগ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি পুরো এলাকার কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগে সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।




