বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় ১১ জন মারা গেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীতেই মারা গেছেন তিনজন। বরগুনা ও জামালপুরে দুজন করে মারা গেছেন। এ ছাড়া বাগেরহাট, গাজীপুর, রংপুর ও রাজবাড়ীতে মারা গেছেন একজন করে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
পটুয়াখালীতে তিনজনের মৃত্যু
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে বজ্রপাতে সেতারা বেগম (৫৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের বাদশা হাওলাদারের স্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেতারা বেগম পাশে খোলা মাঠে গরু চরাতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে তিনি আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কলাপাড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত (সেবক) মো. কবির হোসেন জানান, বুধবার পৌনে ৩টার দিকে সেতারা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বজ্রপাতের আওয়াজে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে দুপুরে মাঠে গরু আনতে গিয়ে মারা গেছেন কৃষক খালেক হাওলাদার (৫৫)। বজ্রপাতে তাঁর শরীর ঝলসে যায়। স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. হুমায়ুন হাসান সুমন বলেন, বজ্রপাতে নিহত খালেক হাওলাদার হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।
এদিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামে সকাল ৯টার দিকে গরু চরানোর সময় কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়েন সৌরভ মজুমদার (২২)। এ সময় বজ্রপাতে তিনি মারা যান। তিনি ওই গ্রামের শাহ আলম মজুমদারের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যরা জানান, এক সপ্তাহ আগে বাবা হয়েছেন সৌরভ। এমন সময়ে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সকালে বজ্রপাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বরগুনায় দুজনের মৃত্যু, অসুস্থ ১৫ শিক্ষার্থী
বরগুনায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু ও ১৫ স্কুলশিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মারা যাওয়া দুজন হলেন আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূজাখোলা গ্রামের মো. নূর জামাল (৫৪) ও পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার জেলে মো. আল আমিন (৩০)।
এদিকে দুপুরে সদর উপজেলার ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের পাশে বজ্রপাত হয়। তখন বিকট শব্দে ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে আটজন বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি সাত শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জামালপুরে দুজনের মৃত্যু
জামালপুরের ইসলামপুরে বজ্রপাতে পৃথক স্থানে শিশু শ্রমিকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ ভোর ৬টা ও সকাল ১০টায় এসব ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া দুজন হলেন উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী ওরফে মেঘু মেম্বারের ছেলে শামীম মিয়া (৩০) এবং পাশের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার স্বাধীন শেখের ছেলে সাগর আলী (১৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের মালপাড়া গ্রামে দশআনী নদীতে শিবজাল দিয়ে মাছ ধরতে যান শামীম ও প্রতিবেশী পল্লিচিকিৎসক মাতবর মিয়া। ভোর ৬টার দিকে নদীতে বজ্রপাত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে নদীতে তলিয়ে যান শামীম। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের ইন্দুল্লামারী এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় বকুল খাঁর বাড়ি থেকে মেহের আলী মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন পাকা সড়কের নির্মাণকাজ করা অবস্থায় বজ্রপাতে সাগর আলী মারা যায়।
সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তার কাজ থেকে সরে যাওয়ার মুহূর্তে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ১৩ বছর বয়সী সাগর আলী মারা গেছে।
চার জেলায় চারজনের মৃত্যু
বাগেরহাট সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বিকেলে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামের এক দিনমজুর মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামের জগদীশ হাওলাদারের ছেলে। তার এক স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারার মজ্জৎকোল গ্রামে সকাল পৌনে ৭টার দিকে বজ্রপাতে মারা গেছেন সুমন মণ্ডল (৩৫) নামের এক যুবক। তিনি ওই গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুমন সকাল পৌনে ৭টার দিকে সাড়ে ৫ বছর বয়সী মেয়ে সাফিয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে মেয়ে কোল থেকে ছিটকে পড়ে, আর সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মেয়ে সাফিয়ার নাক-কান দিয়ে সামান্য রক্তপাত হলেও সে সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিজানুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান।
এদিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বরাইয়া গ্রামে সকালে বন্ধুর বাড়িতে মাছ বিক্রি করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে মো. জাকির হোসেন খান (৩২) নামের এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বরাইয়া গ্রামের সুলতান খানের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামে আজ বেলা ১১টার দিকে বাড়ির উঠানে বাঁধা ছিল গরু গোয়ালে নেওয়ার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন সাহেরা বেগম নামের এক গৃহবধূ। তিনি ওই গ্রামের আজিজার রহমানের স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-ইবাদত হোসেন।
ক.ম/




