অ্যাপেন্ডিক্সের অস্ত্রোপচার করাতে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৪ বছরের আফসানা আক্তার। মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের পর তার দেহে ‘ও পজিটিভ’ ব্লাড পুশ করেন এক নার্স। আধাঘণ্টা পর তিনি বুঝতে পারেন, রোগীর ব্লাডগ্রুপ ‘এ নেগেটিভ’!
মেয়েটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকরা। আর নার্সের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে কমিটি। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শামীম ইফতেখার নিশ্চিত করেছেন এ ঘটনা।
বিজ্ঞাপন
আফসানা আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমান ও আন্জুমান আরা বেগমের মেয়ে। নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে আফসানা। জামালপুরে তার নানাবাড়ি। মায়ের সঙ্গে কিছুদিন আগে বেড়াতে আসে সে।
আফসানার মামা আবীর হাসান দিয়েছেন ঘটনার বর্ণনা ‘কয়েকদিন আগে আমার ভাগ্নির পেটে ব্যথা হয় গত শনিবার একটি বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার দেখাই। তার পরামর্শে পরে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে বেশকিছু পরীক্ষা করার পর ডাক্তার সাইফুল্লাহ কবীর জানালেন যে আফসানার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে। মঙ্গলবার অপারেশনের পর হঠাৎ আখি নামের এক নার্স এসে তার শরীরে রক্ত দিতে শুরু করেন। অথচ তাকে রক্ত দেয়ার কথা ডাক্তার আমাদের আগে বলেনি।’
প্রায় আধাঘণ্টা পর নার্স বুঝতে পারেন, ‘এ নেগেটিভের’ রোগীকে তিনি ‘ও পজিটিভ’ রক্ত দিচ্ছেন- অভিযোগ আবীরের। তার ধারণা, আফসানার পাশের শয্যায় থাকা সিজারিয়ান অপারেশনের রোগীর ‘ও পজিটিভ’ রক্ত প্রয়োজন ছিল। তার বদলে আফসানাকে ওই ব্লাড পুশ করেন নার্স।
আফসানার মা আন্জুমান আরা বললেন, ‘আমার মেয়ের কোনো রক্তের প্রয়োজন ছিল না। রক্তের কোনো কথাও বলেনি চিকিৎসক। হঠাৎ করেই নার্স রক্ত নিয়ে এসে শরীরে দেওয়া শুরু করেন। আমি থামাতে গেলে ওই নার্স বলেন ‘আমার চেয়ে বেশি বুঝেন?’ এই বলে আমার মেয়ের শরীরে রক্ত দেওয়া শুরু করেন তিনি।’
বিজ্ঞাপন
এ নিয়ে হট্টগোলের পর মঙ্গলবার রাতেই নার্স আখিকে সরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরদিন জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় আফসানার পরিবার।
‘মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল’- বললেন হাসপাতালের আরএমও শামীম ইফতেখার।
২০ মিলিমিটার রক্ত ভুলে পুশ করা হয় বলে জানালেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক। হাসপাতালের কাগজে অবশ্য লেখা, ভুলে দেয়া রক্তের পরিমাণ ৫০ মিলিমিটার।
তবে এ বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন অবজারভেশনে থাকাবস্থায় নার্সের গাফিলতির কারনে ভুলব:শত ‘ও’ পজেটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা জানার পরেই আমরা রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে তাকে ডাক্তারের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। এখন রোগীর অবস্থা ভালো আছে।
নার্সের গাফিলতির কারনে ওই রোগীর শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে ওই নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/একেবি




