কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত উপকূলে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারকালে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা রোহিঙ্গা আজিম উল্লাহসহ ১৪ জনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় মাছ ধরার একটি ট্রলার ও ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী নাফ নদীর জেটি ঘাটে আয়োজিত এক যৌথ ব্রিফিংয়ে কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, চক্রের মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহ (৪০) উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মিয়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে পণ্যের চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার অসাধু বোট মালিকদের সহযোগিতায় এসব পণ্য পাচার করা হতো।
কোস্টগার্ড জানায়, পাচারের বিনিময়ে আজিম উল্লাহ মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টাও করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে সোমবার ভোরে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় একটি ফিশিং ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৩ পাচারকারীকে আটক করা হয়। পরে আটক নৌকার মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেলে কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর যৌথ অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে মূলহোতা আজিম উল্লাহকে আটক করা হয়।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর পরিচালিত এ অভিযানে পাচারচক্রের অন্যতম হোতাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জব্দ করা সিমেন্ট, ট্রলার ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
প্রতিনিধি/এসএস




