মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কুমিল্লায় সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিসংযোগ, আহত ৬ পুলিশ সদস্য

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

শেয়ার করুন:

কুমিল্লায় সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় অগ্নিসংযোগ, আহত ৬ পুলিশ সদস্য
আহত যুবক বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে আহত যুবক বশির উদ্দিন (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধরা অভিযুক্ত আবু রশিদের দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুদ্ধদের হামলায় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হন। 

নিহত বশির চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বৈদ্দেরখিল গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। 


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল রাতে পৌর এলাকার বৈদ্দেরখিল গ্রামে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আব্দুল বারেকের ছেলে আবু রশিদ ও একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে নাদিরের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় নাদিরের পক্ষের লোকজন আবু রশিদকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। খবর পেয়ে আবু রশিদের দুই ছেলে আসিফ ও পারভেজ দলবল নিয়ে এসে নাদিরের পক্ষের লোকজনের ওপর পাল্টা হামলা করে। হামলায় বশির গুরুতর আহত হয়। এ সময় হামলকারীরা বশিরের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বশির ও আবু রশিদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বশির ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বশিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভোর রাতে বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদ এর দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে তাদের দুইটি বসতঘর পুড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

চৌদ্দগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রাতে বৈদ্দেরখিল গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বশির উদ্দিন ও আবু রশিদ আহত হওয়ার ঘটনায় উভয় পরিবার থানায় দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বশিরের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশের একাধিক টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে যায়। এই সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আবু রশিদের দুই বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদেরকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

নিহত বশিরের চাচাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বশির পেশায় নির্মাণ শ্রমিক। ২১ এপ্রিল সংঘর্ষের সংবাদ শুনে তিনি উভয়পক্ষকে শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু আবু রশিদের পক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়িভাবে কোপানো ও শক্ত বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করার কারণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে বশিরের মাথায় জটিল অপারেশন করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বশির সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। বশির ৩ সন্তানের জনক।


বিজ্ঞাপন


৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম শাহীন বলেন, মাদকের ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২১ এপ্রিল রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭ নং ওয়ার্ডটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়াতে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট এই এলাকাটি ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচাসহ সরবরাহ করে আসছে। নাদির ও আবু রশিদের পরিবার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। নিহত বশিরকে মাদক কারবারিদের বলি হতে হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন,  ২১ এপ্রিল বৈদ্দেরখিল এলাকায় ২ পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ২ পরিবারই থানায় পৃথক ২টি মামলা করে। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি ওই ঘটনায় আহত হওয়ায় বশির নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধরা আবু রশিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত  ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর