সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মিরসরাইয়ে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মৃত্যু, দাফনের ২৩ দিন পর লাশ উত্তোলন

উপজেলা প্রতিনিধি, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

মিরসরাইয়ে শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মৃত্যু, দাফনের ২৩ দিন পর লাশ উত্তোলন
মৃত এয়ার আহমদ (৪৫)।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দাফনের ২৩ দিন পর আদালতের নির্দেশে এয়ার আহমদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের ও ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এয়ার আহমদ মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম জোয়ার এলাকার আলী আকবর মাঝি বাড়ির গনি আহমদের ছেলে।


বিজ্ঞাপন


মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নিহত এয়ার আহমদ রাতে তার অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে শ্বশুর বাড়ি ফেনী জেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর যাচ্ছিলেন। এসময় রাত প্রায় ১১টার সময় শ্বশুর বাড়ির পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (মস্তাননগর) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরেরদিন ভোরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় গত ৭ এপ্রিল তার স্ত্রী বিবি খতিজা বাদী হয়ে ফেনী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে সোমবার (২৭ এপ্রিল) উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের ও ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে কাটাগাং কবরস্থান থেকে এয়ার আহমদের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী বিবি খতিজা বলেন, আমার স্বামীকে নেয়াজপুর গ্রামের কামাল হোসেনসহ কয়েকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে। প্রথমে আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। ওরা (কামালসহ আসামিরা) আমাকে মামলা না করতে হুমকি দেওয়ায় আমি লাশ দাফন করেছি। গত ৭ এপ্রিল কামালকে প্রধান আসামিকে করে তিন জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনকে আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি (মামলা নং-১২) দায়ের করি। পুলিশ প্রধান আসামিকে কামালকে গ্রেফতার করেছে। আমরা আদালতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করায় সোমবার বেলা ১২টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।’

নিহতের জামাতা (মেয়ের জামাই) মো. ইউসুফ বলেন, আমার শ্বশুর একদম সহজ সরল মানুষ ছিল। করেরহাট বাজারে টু-স্টার ডেকোরেশনের দোকানে কাজ করতেন। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

‎নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের বলেন, আদালতের নির্দেশে সোমবার সকালে ফেনী মডেল থানা পুলিশ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মৃত এয়ার আহমদের লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় লাশ কবরস্থ করা হবে।


বিজ্ঞাপন


প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর