দুই দিন আগেও বিস্তীর্ণ হাওরে বাতাসে পাকা ধানের দোল খাওয়া দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছিল। ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকেরা। সেই চোখ জুড়ানো ফসল টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে ধান তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
গতকাল থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিসহ তুফান ও বজ্রপাত চলছে। একদিকে বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে অন্যদিকে বজ্রপাতের ভয়। মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকেরা।
বিজ্ঞাপন

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই দিনে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ও আদমপুর এলাকাসহ ইটনা ও মিঠামইন হাওরের কিছু এলাকায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে।

সোমবার বিকেলে অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর হাওরে দেখা গেছে, কৃষকেরা ‘গলাডোবা’ ধান কাটছেন। নৌকা দিয়ে ধান কেটে পাড়ে আনা হচ্ছে। অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ করে কোনো রকমে অনেকে ধান কেটে তুলছেন। কেউ আবার শেষ সম্বল হিসেবে ডুব দিয়ে কিছু পচা ধান কেটে কলাগাছের ভেলার ওপরে তুলে এনেছেন। অনেক জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আর যে ধান কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে। হাঁটু বা কোমরপানিতে নেমে কেউ কেউ ধান কাটলেও অনেক কৃষকই আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
কৃষকরা জানান, উজানের পানি নামলেই এই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। হবিগঞ্জ সীমান্তের শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই অষ্টগ্রাম অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে জমিতে পানি জমে থাকায় ধানগাছের গোড়ায় পচন ধরেছে।

এদিকে পাকা ধান তলিয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে এ সংক্রান্ত সঠিক হিসাব নেই। তবে কৃষকদের দাবি, সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান, যা থেকে প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাদিকুর রহমান বলেন, পলি জমে নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় অষ্টগ্রামের হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে গতকাল বিকেলে থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত থেকে থেকে বৃষ্টিসহ ঝড় তুফান হওয়ায় আর বজ্রপাতে ভয় থাকায় কৃষকেরা মাঠে নামছেন না। তিনি জানান, ধানগাছ ৫-৬ দিন পানির নিচে থাকলে ক্ষতি বাড়বে, এর আগে পানি নেমে গেলে ক্ষতি কম হতে পারে। তাই ৮০ শতাংশ ভাগ পাকা ধান কেটে ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, আজ পর্যন্ত হাওরে ৪৮ শতাংশ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে।
প্রতিনিধি/এসএস




