সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সাত খুন: ১২ বছর পেরিয়েও বিচারের আশায় নিহতদের পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ এএম

শেয়ার করুন:

সাত খুন: ১২ বছর পেরিয়েও বিচারের আশায় নিহতদের পরিবার

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনার আজ সোমবার এক যুগ পূর্ণ হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১২ বছরেও বিচারের চূড়ান্ত রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ, হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে নিহতদের স্বজনদের। 

হত্যাকাণ্ডের শিকার সাতজনের একজন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। আজও প্রয়াত স্বামীর ছবির অ্যালবামের দিকে তাকালে অশ্রু ধরে রাখতে পারেন না স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। এক যুগ আগে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষত আজও শুকায়নি। 


বিজ্ঞাপন


আলোচিত এই হত্যা মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, বিচারের রায় হয়েছে, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি এটাই সবচেয়ে বড় কষ্টের। শুধু নিহতদের পরিবার নয়, দেশবাসীও এই রায় কার্যকর দেখতে চায়। সুপ্রিম কোর্টে এই রায় কেন ঝুলে আছে, তা তাঁদের জানা নেই। এক যুগ ধরে তাঁরা প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছেন এবং সরকার চাইলেই এই রায় দ্রুত কার্যকর সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহিমকেও অপহরণ করা হয়। অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনা থেকে ছয়জন এবং পরদিন আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলামের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, লিটন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। 

এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হলে পুলিশ তদন্ত শেষে একত্রে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার বিচারে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালত র‍্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন, কমান্ডার এম এম রানা এবং সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালত আপিল শুনানি শেষে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল পর্যায়ে রয়েছে।

১২ বছর ধরে বিচার চেয়ে আসা নিহত তাজুল ইসলামের বাবা আবুল খায়ের ছেলের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যে, বর্তমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকরে ব্যবস্থা নেবে। 


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও ইব্রাহিম হোসেনের পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর দুই মাস পর জন্ম নেওয়া তার মেয়ে রওজা এখন ১২ বছরে পা দিলেও কখনো বাবার মুখ দেখেনি। 

জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সামসুন নাহার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোক হয়েও যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের রায় কার্যকর হতে কেন এক যুগ লাগবে? মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেনের মতে, বিগত সরকারের বিশেষ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার কারণে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পান তা নিশ্চিত করতে তারা যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার শুনানি সম্পন্ন করে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবেন।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর