রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নির্বিচারে ছায়া বৃক্ষ নিধন, মিরতিংগা চা বাগান ঝুঁকিতে

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০ এএম

শেয়ার করুন:

নির্বিচারে ছায়া বৃক্ষ নিধন, মিরতিংগা চা বাগান ঝুঁকিতে
চা বাগান থেকে নির্বিচারে ছায়া বৃক্ষ নিধন

মৌলভীবাজারের চা শিল্পে নেমে এসেছে নতুন এক অশনি সংকেত। সবুজের নীরব ছায়া, যে ছায়া একসময় চা গাছের প্রাণ হয়ে উঠেছিল, আজ সেই ছায়াই হারিয়ে যাচ্ছে নির্বিচারে কুড়ালের আঘাতে।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং চা গাছের সুষম বৃদ্ধির জন্য ছায়া বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম।


বিজ্ঞাপন


অথচ সাম্প্রতিক সময়ে এই অমূল্য সম্পদই পরিণত হয়েছে চুরির নিশানায়। ফলে শুধু পরিবেশ নয়, হুমকির মুখে পড়েছে চা শিল্পের ভবিষ্যৎ।

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগান, দেউন্দি টি কোম্পানী লিমিটেডের অধীনস্থ এই ঐতিহ্যবাহী বাগানটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও যার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু সেই বাগানেই এখন একের পর এক ছায়া বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ।

06db789e-8cfd-4efb-ad6e-b810a52bf7dd

বাগান সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এই বাগান থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনটি এবং ১৬ এপ্রিল একটি ছায়া বৃক্ষ চুরি হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও তা স্থায়ী হয়নি।


বিজ্ঞাপন


এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (২২ এপ্রিল) গভীর রাতে বাগানের ১৮ নম্বর থেকে ২০ নম্বর সেকশন পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশ থেকে সদ্য রোপিত ৭১টি একাশিয়া প্রজাতির ছায়া বৃক্ষ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তবে রহস্যজনকভাবে গাছগুলো নিয়ে না গিয়ে ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে দ্রুত সরে পড়ে তারা।

জানা গেছে, ঘটনার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কোনো সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। ইতোমধ্যে বাগান কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের নামের তালিকাসহ কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

cbda768a-a92a-4ad0-be14-c360f49e9c5b

বাগান কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বাগানটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী সালাহউদ্দিন শুভ বলেন, একটি ছায়া বৃক্ষ বড় হতে কয়েক বছর সময় লাগে, কিন্তু সেটি কেটে ফেলতে সময় লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। এই ধরনের অপরাধ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং পরিবেশগত বিপর্যয়েরও কারণ হতে পারে। তাই দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি।

মিরতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিক এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

135bb867-d3df-4284-a345-396e79311b0f

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় বাগানের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বাগান পঞ্চায়েত ও সাধারণ চা শ্রমিকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন। চা শিল্প রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ছায়াদানকারী বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর