শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, কলাপাড়া
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগম নামের ওই গৃহবধূকে তার নিজ বাড়িতে গিয়ে চুল ধরে টানাহেঁচড়া, কিল-ঘুসি এবং তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালের শয্যায় খাইরুন বেগম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে কোডেক থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার স্বামী নজির মোল্লা কুয়েতে পাড়ি জমান। কিন্তু বিদেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তিনি এখনো কোনো টাকা পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তান ও অনাগত শিশুকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই এনজিও কর্মীরা নিয়মিত কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং অভাবের মধ্যেও তিনি দুইটি কিস্তি পরিশোধ করেছেন।

খাইরুনের অভিযোগ, শনিবার দুপুরে ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী তার বাড়িতে এসে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে আদায়ের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অসুস্থতার কথা জানালে নারী কর্মীরা গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে তাকে ঘরের বাইরে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং পরে মারধর করা হয়।

স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীর ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


বিজ্ঞাপন


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও খাইরুনের স্বজন পরীবানু জানান, গৃহবধূ বারবার সময় চাইলেও তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং মারধর করা হয়।

এদিকে খাইরুনের ভাসুর রফিক মোল্লা বলেন, প্রবাসী ভাই টাকা পাঠাতে না পারায় তার স্ত্রীর ওপর এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, রোগীর তলপেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রামে গর্ভের সন্তান আপাতত সুস্থ থাকলেও তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোডেকের ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু তাকে অফিসে আসতে বলেছি, কোনো মারধর করা হয়নি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিস্তি বকেয়া রেখেছেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর