শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জব্বারের বলীখেলায় ‘বাঘা’ শরীফের হ্যাটট্রিক

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

শেয়ার করুন:

জব্বারের বলীখেলায় ‘বাঘা’ শরীফের হ্যাটট্রিক

বৈশাখের তপ্ত দুপুর। মাথার ওপর সূর্য যেন অগ্নিবর্ষণ করছে। কিন্তু শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানের উত্তাপ ছাপিয়ে গেছে মানুষের হৃদয়ের উন্মাদনাকে। কেউ গামছা বেঁধে, কেউ ছাতা হাতে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় ঠাঁই নিয়ে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন মাঠের মাঝখানে সেই মাটির রিংয়ের দিকে। লক্ষ্য একটাই শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলার চূড়ান্ত লড়াই দেখা।

এবারের বলীখেলায় অংশ নিয়েছিলেন ১০৮ জন বলী। নবীন থেকে প্রবীণ সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, লালদীঘির শ্রেষ্ঠত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াইটি গিয়ে ঠেকে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মো. শরীফ, যিনি সবার কাছে ‘বাঘা’ শরীফ নামে পরিচিত, এবং রানারআপ মো. রাশেদ।


বিজ্ঞাপন


ফাইনালে রিংয়ের চারপাশ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। ঢোলের বাদ্য আর দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারে মেতে উঠেছে পুরো এলাকা। লড়াই শুরু হতেই দেখা গেল কৌশল আর শক্তির অপূর্ব সমন্বয়। কখনো রাশেদ আক্রমণ করছেন, তো কখনো শরীফ তা দুর্দান্ত দক্ষতায় সামলে নিচ্ছেন। এভাবে চলল টানা ২৫ মিনিট। শেষ মুহূর্তে হুট করেই নিজের কৌশল বদলে ফেললেন শরীফ। রাশেদকে ভারসাম্যহীন করে এক নিপুণ প্যাঁচে মাটিতে ফেলে দিতেই রেফারির বাঁশি বেজে উঠল। বাঘা শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করলেন।

১৯০৯ সালে বদরপাতির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার প্রচলন করেন। তখন উদ্দেশ্য ছিল নিছক বিনোদন নয়, বরং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের তরুণদের শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও সাহসী করে গড়ে তোলা। ১১৪ বছর ধরে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ এই আয়োজন চট্টগ্রামের মানুষের আবেগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালদীঘি ঘিরে আয়োজিত কয়েক কিলোমিটারের এই বৈশাখী মেলা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর