গাইবান্ধাবাসীদের কাছে মানত পূরণের একটি অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত ‘মীরের বাগান’। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আল্লাহতালার সন্তুষ্টি লাভের আশায় আসেন এবং এই স্থানকে ওসিলা করে মানত করেন। অনেকেই খিচুড়ি রান্না করে গরীব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করেন। আবার কেউ কেউ মাজারে দান করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী এই স্থানে বসেছে সেই ইচ্ছা পূরণের মেলা। ইতোমধ্যে এ মেলায় ঢল নামতে শুরু করেছে হাজারো নারী-পুরুষের।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এই মেলায় দেখা গেছে- কেউ কেউ খিচুড়ি রান্না করছেন, আবার অনেকে মাজার জিয়ারতে ব্যস্ত আছেন।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ ও রমজান মাসে এখানে বসে জমজমাট মেলা। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও ভক্তরা এখানে ভিড় জমান। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘আশা পূরণের মেলা’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
খিজির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বলেন, নানা সমস্যা নিরসনের জন্য মানত পূরণ করতে এখানে এসেছি। মানত হিসেবে খিচুড়ি রান্না করে দর্শনার্থীদের খাওয়ানো হচ্ছে।
মীরের বাগানের শাহ্ সুলতান গাজী জামে মসজিদের খাদেম মুহাম্মদ আলী আশরাফি বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এ মেলা চলে আসছে। মানুষ নিজের ইচ্ছায় এসে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য এখানে দোয়া করেন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মীরের বাগান আজও ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকজ সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো শাহ্ সুলতান গাজীর তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ ও মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই স্থানটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মসজিদের দেয়ালে খোদিত শিলালিপি অনুযায়ী এটি ১০১১ সালে নির্মিত। প্রাচীন এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন জঙ্গলে ঢাকা পড়ে ছিল। পরে ১৯০০ সালে দরবেশ সৈয়দ ওয়াজেদ আলী জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় মসজিদটি পুনরাবিষ্কার করেন এবং সংস্কার করেন। এরপর থেকেই এলাকাবাসীর কাছে এটি একটি পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বিজ্ঞাপন
স্থাপত্যগত দিক থেকে মসজিদটি একটি আয়তাকার কাঠামোর ওপর নির্মিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট প্রাচীন নিদর্শন। মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ্ সুলতান গাজী, মীর মোশাররফ হোসেন ও ইবনে শরফ উদ্দিন হোসেনের মাজার, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, একসময় পুরো এলাকা ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। পরবর্তীতে তা পরিষ্কার করে বাগান তৈরি করা হয় এবং ‘মীরের বাগান’ নামটির উৎপত্তিও সেই প্রেক্ষাপট থেকেই এসেছে। কেউ কেউ মনে করেন, মীর জুমলার নামের সাথেও এই নামকরণের সম্পর্ক থাকতে পারে।
প্রতিনিধি/ এজে




