শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শিক্ষিকাই আগে বিএনপি নেতাদের গায়ে হাত তোলেন

আমানুল্লাহ আমান, রাজশাহী
প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

rajsahi
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি কোলাজ: ঢাকা মেইল

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শিক্ষিকার সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাটির পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয়েছে সমালোচনা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নেপথ্যের কারণ।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা। তাদের ভেতর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী ও কৃষক দল নেতা জয়নাল আবেদিনও ছিলেন। তারা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় সেখানে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কলেজের শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


বিজ্ঞাপন


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হীরা প্রথমে অফিসের বাইরে মাঠের ভেতর এক নেতাকে ধাক্কা মারেন। এতে তার লুঙ্গি খুলে যায়। পড়ে যান তিনি। পরে তেড়ে গিয়ে মাটিতে ফেলে তাকে আবারও মারেন হীরা। মূলত এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর অফিসে আলোচনা হয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে। তখন বিষয়টি সামনে আসে। এ সময় অফিসে উপস্থিত শিক্ষক হীরা আবারও উত্তেজিত হন। ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীর গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান আকবর। কিছুক্ষণ পর জুতা খুলে হীরাকে মারতে শুরু করেন। এ সময় হীরা পুনরায় তাকে মারতে উঠেন।

আরও পড়ুন

শিক্ষিকাকে জুতাপেটা, সেই বিএনপি নেতা বহিষ্কার

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিস কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষের সঙ্গে হীরার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন তিনি। অধ্যক্ষের সঙ্গে সখ্য থাকায় তাকে কিছু বলা যায় না। উল্টো তিনি খারাপ আচরণ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি কাউকে অপমান করিনি। বিএনপির লোকজন চাঁদাবাজি করতে এসেছিল। অনুষ্ঠানের নাম করে টাকা নেবে। আমি নিষেধ করি। তাই তারা আমার ওপর হামলা করেছে। অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে।’


বিজ্ঞাপন


Rajsahi2
কলেজ শিক্ষিকা আগে হাত তোলেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছবি: সংগৃহীত

কলেজটির অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘মাঝেমধ্যে লোকজন এসে ডিস্টার্ব করে। আমার সহকর্মীদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না। জড়িতদের আমি বিচার চাই।’

পদ থেকে বহিষ্কৃত ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘অনুষ্ঠান হবে, সেটার দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। আমরা কোনো চাঁদাবাজি করতে যাইনি। ওই মহিলা হামলে পড়ে আমাদের ওপর। আমরা তার বিচার করার দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন

শিক্ষিকাকে জুতাপেটা করলেন বিএনপি নেতা

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমাদের অফিসাররা সেখানে গেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এখনো মামলা হয়েনি। মামলা বা লিখিত অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে তাদের আগে থেকে বিরোধ ছিল। বিএনপির নাম করে কিছু লোকজন সেখানে মেলা টাইপের কিছু করবে বলছিল এবং সহযোগিতা নেওয়ার জন্য কলেজে গিয়েছিল। এরপর উত্তেজিত হয়ে ঘটনা ঘটে। আমরা তদন্ত করছি। প্রয়োজনীয় আইনি  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে, শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দলীয় সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর