যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবার খেয়ে ৭০ জনেরও বেশি ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তারিক হাসান জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যাদের সবার উপসর্গ প্রায় একই ধরনের। জানা গেছে, গত বুধবার রাতে হলের ডাইনিংয়ে ভাত, মাংস, ভর্তা ও ডাল খেয়েছিলেন তারা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই খাবার থেকেই বিষক্রিয়ার (ফুড পয়জনিং) সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে। শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়ায় অনেকে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছেন। সীমিত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল নিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে; প্রয়োজন হলে তাদের যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতিও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের ডাইনিংয়ে প্রায় ১৬৬ জন শিক্ষার্থী খাবার খেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভোর ৪টা থেকে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে এবং সকাল থেকে একে একে তারা মেডিকেল সেন্টারে ভিড় করতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের মতে, যারা ডাল খাননি, তাদের মধ্যে অসুস্থতার হার তুলনামূলক কম।
শিক্ষার্থীরা হলের ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, দুপুরে রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয় এবং প্রায়ই খাবার থেকে দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে চুল কিংবা মুরগির পালক পাওয়ার ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক। এছাড়া থালা-বাসন অপরিষ্কার থাকা এবং ডাইনিং এলাকায় বিড়ালের উপদ্রব নিয়েও তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে, অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে মেডিকেল সেন্টারে তীব্র চাপের সৃষ্টি হয়। এ সময় সীমিত লোকবল নিয়ে চিকিৎসকরা রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খেলেও, অভিযোগ উঠেছে যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন চিকিৎসক তখন কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
বিজ্ঞাপন
হলের প্রভোস্ট ড. আফরোজা খাতুন জানান, তিনি বিষয়টি অবগত হওয়া মাত্রই সহকারী প্রভোস্টকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বুধবার দুপুরে তিনি নিজেও ডাইনিংয়ে খাবার খেয়েছিলেন। তবে রাতের খাবারে ঠিক কী সমস্যা ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিনিধি/একেবি




