বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ধুলা-ধোঁয়ায় ধুঁকছে বগুড়া, বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে প্রিয় শহর

পারভীন লুনা, বগুড়া
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ধুলা-ধোঁয়ায় ধুঁকছে বগুড়া, বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে প্রিয় শহর

উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ব্যস্ততম নগরী বগুড়া এখন ধুলার চাদরে ঢাকা এক বিবর্ণ শহর। একসময়ের পরিচ্ছন্ন এই জনপদটি এখন অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন তার বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। 

বিশেষ করে বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে বাতাসের মান এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, সাধারণ মানুষের শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সড়কগুলো দিয়ে হাঁটলে মনে হয় কোনো কুয়াশাচ্ছন্ন জনপদ, অথচ সেই ধোঁয়াশা আসলে যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর নির্মাণকাজের ধুলার সংমিশ্রণ।


বিজ্ঞাপন


শহরজুড়ে তাকালেই দেখা যায় যত্রতত্র চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি আর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ। অবাক করার বিষয় হলো, এসব উন্নয়নকাজে ধুলোবালু নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো কিংবা নির্মাণস্থল ঢেকে রাখার মতো নূন্যতম পরিবেশগত সতর্কতাও মেনে চলা হচ্ছে না। এর সাথে পাল্লা দিয়ে যুক্ত হয়েছে আশপাশের ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া আর খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পোড়ানোর তীব্র গন্ধ। সকাল আর সন্ধ্যায় এই দূষণ যেন দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে নগরবাসীর ফুসফুসে হানা দিচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি।

রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভের সুরে বলছিলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই ধুলায় চোখ-মুখ বন্ধ হয়ে আসে। এখন মাস্ক ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় নেই। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে আমাদের শিশুরা, যারা প্রতিদিন এই বিষাক্ত বাতাস নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে।’ চিকিৎসকদের মতেও এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দীর্ঘ সময় এমন দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়, যার সরাসরি শিকার হচ্ছে শহরের শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।

এই পরিবেশগত বিপর্যয় নিয়ে সরব হয়েছেন পরিবেশবাদীরাও। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান মনে করেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই শহর অদূর ভবিষ্যতে পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হতে পারে। তিনি অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণস্থলে কঠোরভাবে ধুলা দমন আইন প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যথায় শুধু উন্নয়নের দোহাই দিয়ে একটি শহরকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

bagura-4


বিজ্ঞাপন


তবে এই সংকটের সমাধান নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। তিনি দাবি করেন, বায়ুদূষণ কমাতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিয়মিত বিরতিতে সড়কে পানি ছিটানো, পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 কিন্তু সাধারণ মানুষের মতে, উদ্যোগের ঘোষণা কাগজে-কলমে থাকলেও রাজপথের বাস্তবচিত্র ভিন্ন। শুধু উদ্যোগের ঘোষণা নয়, তার কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন বাস্তবায়নই এখন বগুড়াবাসীর একমাত্র দাবি, যাতে তারা আবার তাদের প্রিয় শহরে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারেন।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর