নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের মালোপাড়ায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের বিরোধ অবশেষে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছেছে। টানা প্রায় ৫ ঘণ্টার আলোচনার পর বিবাদমান দুই পক্ষ রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকেই ওই এলাকায় প্রাচীর অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শান্তিপূর্ণ সমাধানে খুশি ওই এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমিক দিয়ে ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী এ প্রাচীর তৈরি করেন। এতে অন্তত ২৫টি সংখ্যালঘু জেলে পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে গেছে। টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করে এসব পরিবার।
দেদার-ই-এলাহী দাবি করেন, জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি এবং এটি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানে অন্য একটি বিকল্প রাস্তা রয়েছে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংখ্যালঘু ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। অভিযোগ রয়েছে, লক্ষীপাশা মৌজার সাবেক দাগ নং ২৬১ ও আর.এস ২০২৮ দাগের প্রায় ৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত এ পথটি বিভিন্ন রেকর্ডে সরকারি রাস্তা হিসেবেও উল্লেখ রয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাস্তা খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওই স্থানে নির্মিত সীমানা প্রাচীর অপসারণ এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য নতুন রাস্তার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন

নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুম্মিতা সাহা, নড়াইল-২ আসনের সদস্য এর প্রতিনিধি জামায়াত নেতা সামিউল হক টুটুল, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান, নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব রশিদ লাভলুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মালোপাড়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ আলোচনা শেষে বিষয়টি সুন্দর সমাধান হয়েছে। বুধবার সকালে নির্মাণ করা দেয়ালটি সরিয়ে ফেলা হবে এবং সাথে সাথে আমাদের চলাচলের জন্য নতুন রাস্তার জায়গা দেওয়া যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।
সভায় উপস্থিত ব্যারিষ্টার দেদার-ই-এলাহী প্রতিনিধি মো. হায়দার বলেন, সকাল থেকে দেয়াল অপসারণের কাজ শুরু করা হবে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস বলেন, উভয় পক্ষের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল সালাম বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে একটি টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রতিনিধিদল এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ওই সীমানা প্রাচীর অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে নতুন রাস্তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, এ বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসনকে জানাই এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়টি সুন্দর সমাধান হয়েছে। নতুন জায়গায় রাস্তা নির্মাণের জন্য দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আশা করছি এখন থেকে উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে।
প্রতিনিধি/এসএস




