বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ছেলের মরদেহ চুরির ভয়ে রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন বাবা!

জেলা প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ছেলের মরদেহ চুরির ভয়ে রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন বাবা!

রাতের অন্ধকারে কবর থেকে প্রিয় সন্তানের মরদেহ চুরি হয়ে যেতে পারে। এমন চরম শঙ্কা ও আতঙ্কে রাত জেগে ছেলের কবর পাহারা দিচ্ছেন এক নিঃস্ব বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়া এলাকায়। 

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায়, বজ্রপাতে সদ্য প্রাণ হারানো কিশোর আরাফাত খাঁনের কবরের পাশে বসে নিভৃতে পাহারা দিচ্ছেন তার বাবা জসিম খাঁন। 


বিজ্ঞাপন


গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আকস্মিক বজ্রপাতে কিশোর আরাফাতের মৃত্যু হয়। দাফনের পর থেকেই লাশের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি। মৃত আরাফাতের বাবা জানান, তার ছেলে দর্জির কাজ করে সংসার চালাত। ঘটনার দিন গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে সে বজ্রপাতের শিকার হয়। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির মরদেহের অনেক দাম এবং তা চুরির চক্র সক্রিয় থাকে। 

এমন কিছু ঘটনার কথা আগে শুনেছেন বলেই এই অসহায় বাবা ছেলেকে কবরেও শান্তিতে থাকতে দিতে পারছেন না। নিজে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও প্রতি রাতে কবরের পাশে বসে থাকছেন তিনি। এমনকি অভাবের সংসারে নিজের খরচ চালানোর সামর্থ্য না থাকলেও বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়তি লোক ভাড়া করেছেন কবর পাহারা দেওয়ার জন্য। 

জসিম খাঁন আক্ষেপ করে বলেন, ‘প্রশাসন যদি কবর পাহারার ব্যবস্থা করত, তাহলে কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারতাম।’ 

স্থানীয় বাসিন্দা বিপু মাতব্বর জানান, এলাকা থেকে মাঝেমধ্যেই মরদেহ চুরির ঘটনা ঘটে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেন। 


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে খবর পাওয়ার পরপরই টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে পাঠিয়ে পরিবারটির খোঁজ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন থেকে কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 

ওই একই দিনে মুন্সিগঞ্জে বজ্রপাতে আরাফাত ছাড়াও রিজান ঢালী নামে এক কিশোর এবং সিরাজদিখানে আব্দুল আজিজ মৃধা নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর