নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় স্ত্রীকে পেটানোর পর জোর করে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী মাশরাফি ইসলাম পিয়েলকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের সালনা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১ এর গাজীপুর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার পিয়েল কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামের বিল্লাল ব্যাপারীর ছেলে।
আর ভুক্তভোগী গৃহবধূ রিনা আক্তার (২০) পাশ্ববর্তী মদন উপজেলার বাশুঁরী দূর্গাশ্রম গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে।
বিজ্ঞাপন
হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল।
পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও র্যাবের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, চট্টগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় কাজের সূত্র ধরে পিয়েল ও রিনার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে তারা দৈহিক সম্পর্কে জড়ায়। তবে কয়েক বছর সম্পর্কের পর বিয়েতে অসম্মতি জানায় পিয়েল। এতে ক্ষোভে পিয়েলের গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। পরে সামাজিক চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয় পিয়েল। বিয়ে করলেও রিনার প্রতি ক্ষোভ থেকেই যায় পিয়েলের। রিনাকে হত্যার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইফতারির খাবারের মধ্যে কীটনাশক মিশিয়ে সেই খাবার রিনাকে খেতে দেয় পিয়েল। রিনা বিষয়টি টের পেয়ে খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে কাঠের রুল দিয়ে পিটিয়ে ও কিল ঘুষি মেরে জোর করে বিষ মাখানো খাবার রিনাকে খাইয়ে দেয় পিয়েল। চিৎকার করে কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেলে রিনাকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায় পিয়েল ও তার পরিবারের লোকজন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে খবর পেয়ে রিনার বাবা জাকির হোসেন মমেক হাসাপাতালে গেলে পিয়েল ও তার পরিবারের লোকজন লাশ রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রিনার বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে ২ মার্চ কেন্দুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে পিয়েল, তার বাবা বিল্লাল মিয়াসহ পরিবারের আট জনকে আসামি করা হয়। তবে ঘটনার পরপরই পিয়েলসহ পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে মামলার পর ঘটনার ছায়াতদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে র্যাব। অবশেষে গতকাল গাজীপুরের সালনা এলাকায় প্রধান আসামি পিয়েলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন জানান, আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গ্রেফতারের পর পিয়েলকে কেন্দুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আওয়াল বলেন, গ্রেফতার পিয়েলকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। এ মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস




