মাদারীপুরে পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে দু’পক্ষের মধ্যে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৮ জন আহত হয়েছেন। এসময় দুটি দোকানে ভাঙচুর করে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার নয়াচর গোলচত্তরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে।
বিজ্ঞাপন
আহত ব্যক্তিরা হলেন- ওই এলাকার মিনজাল বেপারীর ছেলে সাগর বেপারী (১৯), মৃত মৃত হাজী ওহাদে সরদারের ছেলে গোলাম মওলা সরদার (৫৮), মৃত হান্নান বেপারীর ছেলে রবিউল বেপারী (২৫), হান্নান বেপারীর ছেলে রেদওয়ান বেপারী (১৬), লিটন মাতুব্বরের ছেলে সাজ্জাদ মাতুব্বর (২২) ও তাজেল খানের ছেলে রাসের খান (৩০)। বাকি দুইজনের নাম পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই বছর আগে নয়াচর এলাকার গোলাম মওলা সরদারের কাছ থেকে তার মালায়েশিয়ার ভিসা ও পাসপোটের মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলে ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেন একই এলাকার সাইদুল বেপারী। পরে কথা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হয় সাইদুল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টাও করা হলেও কোন সমাধান হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাইদুলের বাড়িতে পাওনা টাকা চাইতে চান গোলাম মাওলা। এরই জেরে রাতে গোলাম মাওলা নয়াচর গোলচত্বরে গেলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সাইদুল ও তার লোকজন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুইপক্ষ। টর্চলাইট জ¦ালিয়ে রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ শেষ হয় রাত সাড়ে ১০টার দিকে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬জনকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে।
ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা সরদার বলেন, ‘সাইদুলের কাছে পাওনা টাকা চাওয়ায় এই ঘটনায় ঘটিয়েছে। আমিসহ আমাদের পক্ষের বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। সবাই হাসপাতালে ভর্তি। আমি এর বিচার চাই।’
অভিযুক্ত সাইদুল বেপারী বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কোন টাকা নেয়নি। মিথ্যা কথা বলে আমার লোকজনকে মারধর করেছে গোলাম মাওলা সরদারের লোকজন। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করছি।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘ফের সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/ এজে




