মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে এমপি ছিলেন মনোযোগী ছাত্র

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে এমপি ছিলেন মনোযোগী ছাত্র

কুমিল্লা শহরতলীর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক সপ্তম শ্রেণির বাংলা ক্লাস নিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ শ্রেণিকক্ষে হাজির কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মো. মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই বসে যান শিক্ষার্থীদের সাথে এবং শিক্ষককে বলেন ক্লাস চলমান রাখতে।

তিনি মনোযোগী শিক্ষার্থীদের মতো প্রায় আধা ঘন্টা ক্লাস শুনেন। এমপির এমন ব্যতিক্রমী পরিদর্শনে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন। ৭৯ বছর বয়সী এমপি বলেন, বুড়া (বৃদ্ধ) বয়সে শিশুদের সাথে ক্লাসে বসলাম, ভালো লাগলো- শিক্ষার্থীরাও অনুপ্রাণিত হলো।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (২১ এপ্রিল) শহরতলীর বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। এরপর তিনি যান দিদার মডেল হাইস্কুলে। 

স্কুলটির একাধিক শিক্ষক বলেন, সোমবার সকাল ১০টায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছিলেন সহকারী শিক্ষক শামিমা নাসরিন। তিনি বাংলা প্রথমপত্রের কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি মজুর’ কবিতাটি পড়াচ্ছিলেন। এসময় এমপি মনিরুল হক চৌধুরী স্কুলটি পরিদর্শনে যান। তিনি সরাসরি সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে ঢুকে সামনের বেঞ্চে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে পড়েন।

এসময় তিনি শিক্ষককে পাঠদান চলমান রাখতে বলেন এবং শিক্ষার্থীদের মতো মনোযোগী হয়ে পাঠদান শুনেন। ক্লাসের একপর্যায়ে এক ছাত্রীর কাছ থেকে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি মজুর’ কবিতাটির আবৃত্তি শুনেন। এসময় তিনি নিজেও কবিতাটির ভাবার্থ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। 

সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের শিক্ষক শামিমা নাসরিন বলেন, এমপি মহোদয় এভাবে হঠাৎ ক্লাসে বসে একজন শিক্ষার্থীর মতো মনোযোগী হয়ে পুরো ক্লাস পর্যবেক্ষণ করবেন- এটা আমি ভাবতেও পারিনি। একজন এমপি আমার সামনে ক্লাসে বসা, আমি ক্লাস নিচ্ছি- এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের ছিল। এই বিদ্যালয়ে এর আগে কখনো কোনও এমপি এমনভাবে পরিদর্শনে আসেননি।  


বিজ্ঞাপন


বলরামপুর দিদার মডেল হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অর্চনা দেবনাথ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয় শ্রেণিশিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা শুনে সেগুলো সমাধানের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত রসায়নে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রীধারী মনিরুল হক চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ক্লাসে বসার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েদের মাঝে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে তাদের ভেতরে শিক্ষার আনন্দটা জাগাতে হবে। তাহলে তারা স্কুল ফাঁকি দেবে না, পড়াশোনায় অমনোযোগী হবে না। শিক্ষার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছি।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর