মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অন্ধ চোখেও অদম্য গণি মিয়া, বাঁশের ঝুড়িতে বাঁচার লড়াই

জেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল 
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ এএম

শেয়ার করুন:

অন্ধ চোখেও অদম্য গণি মিয়া, বাঁশের ঝুড়িতে বাঁচার লড়াই

১৮ বছর ধরে পৃথিবীর আলো দেখতে পান না মো. আব্দুল গণি। তার বর্তমান বয়স ৬৭ বছর। একসময় দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যান। তবুও জীবনযুদ্ধে তিনি থেমে যাননি।

গণি মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বুড়িচলা গ্রামে। সংসারে তার সঙ্গী ৬২ বছর বয়সী স্ত্রী হাউসি বেগম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও গণি মিয়া কারও কাছে হাত পাততে চান না। তিনি বন-জঙ্গল থেকে বাঁশ কুড়িয়ে এনে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তা কাটেন। এরপর সেই বাঁশ চিরে নিখুঁতভাবে তৈরি করেন কুলা, টেপারি ও ঝুড়ির মতো হস্তশিল্প। প্রতিদিন আলিশার বাজারে বসে তিনি এসব পণ্য তৈরি ও বিক্রি করেন। কাজ করার সময় মনের অজান্তেই ধর্মীয় গজল বা গান গেয়ে নিজের কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


দিন শেষে তার আয় হয় মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা দিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। অথচ পরিবারে উপার্জন করার মতো সুস্থ কোনো মানুষ নেই। গণি মিয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। ভেবেছিলেন, ছেলেরা বিদেশে থাকায় বার্ধক্যের দিনগুলো অন্তত স্বস্তিতে কাটবে। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে ভিন্ন। দুই ছেলের ঘরে বাবা-মায়ের আশ্রয় হলেও মেলেনি আর্থিক সহায়তা। প্রবাসে থাকলেও ছেলেরা নিয়মিত তাঁদের খোঁজ নেন না কিংবা প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা পাঠান না। ফলে দারিদ্র্যের চরম কশাঘাত সহ্য করেই জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি।

প্রতিবেশী জাকির হোসেন বলেন, গণি ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ। চোখে দেখতে না পেলেও তিনি কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি। বাঁশের কাজ করেই তিনি সংসার চালান। এলাকাবাসী মাঝেমধ্যে সাহায্যের হাত বাড়ালেও তা পর্যাপ্ত নয়। অথচ সামান্য সরকারি অনুদান বা কোনো বিত্তবানের সহায়তা পেলে জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে এই দৃষ্টিহীন মানুষটি ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানান, গণি মিয়াকে ইতোমধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। দৃষ্টিহীন হয়েও তাঁর এই কর্মস্পৃহা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল রনি জানান, গণি মিয়ার খোঁজখবর নিয়ে সরকারিভাবে আরও কিছু করার সুযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে করা হবে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর