ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোমবার থেকে উদ্বোধন করা হয়েছে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি। জেলার ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু পাবে হামের টিকা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
প্রেসক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া আরো বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ১৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। যে দু’জন মারা যাওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে তারা মূলত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলো।
তিনি বলেন, ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত এমআর টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হলো, ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট পাঁচ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩২ জন শিশুকে হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করা। এই কার্যক্রমের আওতায় জেলাজুড়ে মোট ১১টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং দুই হাজার ৩৮৮টি আউটরিচ কেন্দ্র পরিচালিত হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল তিনটা নাগাদ মাইক্রো প্ল্যান অনুযায়ী টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
আরো জানানো হয়, ক্যাম্পইেন বাস্তবায়নে মোট ৩১২ জন সুপারভাইজার, ৬২৪ জন ভ্যাকসনিটের এবং ১,২৪৮ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন, যারা সমন্বিতভাবে শিশুদের কাছে টিকা সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। বর্তমানে জেলায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ ডোজ এমআর ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই অতিরিক্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ পাওয়া যাবে, যা পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞাপন
এমআর ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অনুমোদতি। বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় এই ভ্যাকসিন সফলভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই ভ্যাকসিনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্রে এসে তাদের ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে টিকা দিয়ে হাম ও রুবেলা মুক্ত বাংলাদেশে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
মত বিনিময় সভায় বক্তব্য দেন- প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান, তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস।
এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়।
এদিকে, সোমবার সকালে অবকাশ এলাকার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। এ সময় সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস




