চুয়াডাঙ্গা জেলায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’। যা চলবে ১০ মে পর্যন্ত। এ সময়ে জেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী মোট ১ লাখ ৩ শত ৫ জন শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হবে।
ক্যাম্পেইনটি দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ৮ দিন ইপিআই আউটরিচ কেন্দ্রগুলোতে এবং পরবর্তী ৩ দিন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জেলায় মোট ৯৮৮টি টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি স্থায়ী কেন্দ্র এবং ৯৮০টি অস্থায়ী (আউটরিচ) কেন্দ্র রয়েছে। কমিউনিটি পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ হাজার ৬২৭ জন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ৬৭৮ জন শিশু।
টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৩৪১ জন সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী, ১১৮ জন তত্ত্বাবধায়ক এবং ১ হাজার ৯৫৬ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন।
বিজ্ঞাপন
সিভিল সার্জন আরও জানান, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত জেলায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বর্তমানে ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। হাম সন্দেহে ৩৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, যার রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।
ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ, সমন্বয় সভা, পরিকল্পনা ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে ১৮ ও ১৯ এপ্রিল জেলাজুড়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
আগামীকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




