অ্যামোনিয়ার অভাবে বন্ধ হয়ে গেল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়া এলাকায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে অ্যামোনিয়ার মজুত শেষ হয়ে গেলে কারখানায় সার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৯ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএপি কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাঈনুল হক। তিনি জানান, গত ৪ মার্চ থেকে আমরা অ্যামোনিয়া সরবরাহ পাচ্ছি না। এরপরও আগের মজুত দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে আসছিলাম। মজুত শেষ হওয়ায় শনিবার রাত থেকে আপাতত উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আজ রোববারও কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পাওয়া গেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে।
কারখানা সূত্র জানিয়েছে, ডিএপি কারখানাটি পার্শ্ববর্তী দুই সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে উৎপাদন চালিয়ে থাকে।
গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে দুটি কারখানা থেকেই ডিএপি কারখানায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এরপর আগের মজুত অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে প্রায় দেড় মাস উৎপাদন চালু রাখা হয়। কিন্তু শনিবার সেই মজুতও শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে কারখানাটি স্থাপন করা হয়।
২০০৬ সালে কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। এখানে দুটি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে ডিএপি-১ ও ডিএপি-২। প্রতিটি ইউনিটে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষিখাতে এর প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/টিবি




