শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রাতে মসজিদের পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ ধরে নিয়ে গেলেন বিএনপি দুই নেতা

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

রাতে মসজিদের পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ ধরে নিয়ে গেলেন বিএনপি দুই নেতা

সিরাজগঞ্জে তাড়াশে মসজিদের পুকুরে রাতের বিষ প্রয়োগ করে সকালে জোরপূর্বক মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার ভোরে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী জামে মসজিদের পুকুরে।

অভিযুক্ত বিএনপির নেতারা হলেন- তালম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক ও তালম ইউনিয়ন তাঁতিদলের সভাপতি মো. এনামুল হক।


বিজ্ঞাপন


এদিকে, শুক্রবার রাতে মসজিদের পুকুরের জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকার মাছ মেরে আত্মসাতের বিচার চেয়ে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গাবরগাড়ী মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. আলতাফ হোসেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।

আরও পড়ুন

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ২য় বিয়ের প্রস্তুতি, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাবরগাড়ী মসজিদ কমিটি ১৩৪২ বাংলা সনে তফশিলে সম্পত্তি পত্তনি পেয়ে সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হয়। ওই টাকায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিম, খাদেমের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় করে থাকেন মসজিদ কমিটি। সম্প্রতি সময়ে আব্দুর রাজ্জাক গং নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করছে। মামলা মোকদ্দমার মাধ্যমে বর্তমানে গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটি ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করে আসছে। এ জন্য গত ৫ মাস ধরে পুকুরে মাছ মেরে নেবেন বলে মসজিদ কমিটির সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিয়েও আসছেন আব্দুর রাজ্জাক গং। আর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মসজিদের পুকুরে বিষাক্ত কীটনাশক দিয়ে শুক্রবার ভোরে ওই দুই নেতার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৮জন মানুষ প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মসজিদ কমিটি পুকুর পাড়ে গিয়ে তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করলে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁটা, রডসহ হামলা করতে যায় এবং বিভিন্নভাবে শাসান। পরে মসজিদ কমিটির পক্ষে থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ওই নেতারা মাছ ধরে নিয়ে যান।


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপির নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুকুরের পানিতে গ্যাস হয়েছিল। পুরো গ্রামের মানুষই মাছ ধরছে। সেখানে আমাদের লোকজনও মাছ ধরছে। আর এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর