শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

শিশু আতিকা হত্যার মূল অভিযুক্ত কিশোর নাঈম গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

শিশু আতিকা হত্যার মূল অভিযুক্ত কিশোর নাঈম গ্রেফতার
শিশু আতিকাসহ তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিশোর নাঈম।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামে একইদিনে শিশু আতিকাসহ তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিশোর নাঈমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে আতিকার কানের দুল। গ্রেফতার হয়েছেন স্বর্ণের দোকানদার নিত্য কর্মকার।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম হোসেন।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় নিহত শিশুটির মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের অভিযুক্ত কিশোর নাঈম, কিশোরের বাবা নিহত পান্নু মিয়া (৪৫), নিহত চাচা ফজলু মিয়া (৩০) ও আহত ভাই নাজমুল হোসেন (২৪) এবং একই গ্রামের মো. রনি (২২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার পর থেকে সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা আক্তার (৭) নিখোঁজ হয়। এর পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে স্বজনেরা শিশুটির খোঁজ করতে থাকেন। এরই মধ্যে আতিকাকে একই গ্রামের ওই কিশোর নাঈম (১৫) সঙ্গে দেখেছে বলে স্বজনদের জানায় এক শিশু। এরপর কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে আতিকার স্বজনেরা। পরে রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে গলায় কাপড় পেঁচানো ও হাত পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার লাশ উদ্ধার করে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর লাশ বাড়ি নিয়ে যান স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। এরই মধ্যে কিশোর পালিয়ে যায়। তবে কিশোরের বড়ভাই নাজমুলকে আটক করে নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। এরপর কিশোরের বাবা পান্নু, চাচা ফজলুকে নিহত শিশুর বাড়িতে ডেকে আনা হয়। রাত ১১টার দিকে নিহত শিশুর বাড়িতে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনি দিয়ে পান্নু ও ফজলুকে ঘটনাস্থলেই মেরে ফেলে। পরে তাদের লাশ বাড়ির পাশে একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। এ ঘটনা গুরুতর আহত হন নাজমুল। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত নাজমুলকে জেলা সদরে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে, পরে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পাশাপাশি নিহত শিশু আতিকা এবং পান্নু ও ফজলু লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, গণপিটুনিতে নিহত ২

পুলিশ সূত্রে জান যায়, শুক্রবার নিহত শিশু আতিকা এবং পান্নু ও ফজলুর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে সন্ধ্যায় শিশু আতিকার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এশার নামাজের পর জানাজা শেষে বনপারিল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে শিশুটির লাশ দাফন করা হয়েছে। পরের দিন শনিবার দুপুরে গণপিটুনিতে নিহত দুই ভাই পান্নু ও ফজলুর লাশ হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বিকেলে একই কবরস্থানে শিশুর কবরের পাশেই গণপিটুনিতে নিহত পান্নু ও ফজলুর লাশ দাফন করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল বনপারিল এলাকার পাশেই ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকা। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে অভিযুক্ত কিশোর নাঈমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া বাজার থেকে নিহত আতিকার ১ আনা, ২ রতি ওজনের স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণের দোকানদার নিত্য কর্মকার ৯ হাজার টাকা দিয়ে ওই কানের দুল কিনেছিল। চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের ঘটনায় দোকানদার নিত্যা কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া নাঈম বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কিশোর আদালতে তোলা হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম স্বীকার করেছেন, সে আতিকার কানের দুল নেওয়ার জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সেই সঙ্গে গণপিটুনিতে নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন নিহতদের পরিবার বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শনিবার দুপুরে নিহত শিশুটির মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন, সদর উপজেলার বনপারিল গ্রামের অভিযুক্ত কিশোর নাঈম, কিশোরের বাবা নিহত পান্নু মিয়া (৪৫), নিহত চাচা ফজলু মিয়া (৩০) ও আহত ভাই নাজমুল হোসেন (২৪) এবং একই গ্রামের মো. রনি (২২)।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর