শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

তারেক রহমানের সফর ঘিরে বগুড়া যেন এক আনন্দপুর

পারভীন লুনা, বগুড়া 
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

তারেক রহমানের সফর ঘিরে বগুড়া যেন এক আনন্দপুর

সবুজ শ্যামল মেঠো পথ আর পরিচিত বাতাসের ঘ্রাণ হয়তো অনেকদিন থেকেই ডাকছিল তাকে। প্রায় দুই দশক পর সেই মাটির টানেই ফিরছেন তিনি, তবে এবার শুধু পৈতৃক ভিটার উত্তরসূরি হিসেবে নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। 

আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) ‘ঘরের ছেলে’ তারেক রহমানের নিজ জেলা বগুড়ায় এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে এখন উত্তরবঙ্গ জুড়ে বইছে উৎসবের হাওয়া।


বিজ্ঞাপন


সকাল ৬টায় রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী। পথে দুপাশের উৎসুক জনতার ভালোবাসা সিক্ত হয়ে সকাল সাড় ১০টায় তিনি পৌঁছাবেন বগুড়া সার্কিট হাউসে। দীর্ঘ ২০ বছর পর এই জনপদের মানুষের জন্য দিনটি কেবল একটি সরকারি সফর নয়, বরং এটি যেন এক হারানো স্বজনকে ফিরে পাওয়ার মহেন্দ্রক্ষণ। 

সফরের শুরুতেই তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন এবং আধুনিক বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের সূচনা করবেন। তবে বগুড়াবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় চমক হয়ে আসছে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি এই নতুন সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করবেন, যা জেলা শহরের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের মাইলফলক।

দুপুরের সূচি সাজানো হয়েছে শেকড়ের কাছাকাছি গিয়ে। গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন এবং শহিদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। 

এরপর নশিপুরে চৌকিদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সফরের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসবে যখন তিনি তার পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’র আঙিনায় পা রাখবেন। স্মৃতির ধুলোবালি মাখা সেই ভিটা পরিদর্শনের সময় এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন গ্রামবাসী।


বিজ্ঞাপন


বিকেলের দিকে সবার নজর থাকবে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের দিকে। সেখানে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি। ২০০৬ সালের পর এটাই তার প্রথম প্রকাশ্য জনসভা হতে যাচ্ছে নিজ জেলায়, যেখান থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে। 

এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধনও করবেন তিনি। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে ফেরার পথে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন।

এই সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলীর সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনার শেষ নেই। বাগবাড়ী গ্রামের প্রবীণ আবদুল হাসান কিংবা গৃহিণী আসিয়া খাতুনের চোখেমুখে এখন কেবলই প্রতীক্ষার ছাপ। তাদের কাছে তিনি কেবল প্রধানমন্ত্রী নন, বরং তাদের অতি পরিচিত সেই মানুষটি যিনি দীর্ঘ লড়াই শেষে জয়ী হয়ে ফিরছেন। 

ziaur-rahman

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরা তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজিয়ে তুলেছেন পুরো শহর। সব মিলিয়ে ২০ এপ্রিলের সূর্যোদয়ের সাথে সাথে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বীরের জেলা বগুড়া।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর