শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জ্বালানি তেল সংকট ও তেলের লাইনে চরম ভোগান্তি লাঘবে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এখন থেকে জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা লাইনে জ্বালানি তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মেসার্স হাসান মাহমুদ নায়েব ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করে জরুরি সেবাসংশ্লিষ্টদের জন্য পৃথক লাইনে তেল সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাজিরা উপজেলায় বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র একটি ফিলিং স্টেশন মেসার্স হাসান মাহমুদ নায়েব ফিলিং স্টেশন। পুরো উপজেলার যানবাহনের জ্বালানি এই একটি পাম্প থেকেই সরবরাহ করা হয়। পাম্পটির অবস্থান বড় বাজারের পাশে হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে তীব্র ভিড় সৃষ্টি হয়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ার সমস্যা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ বিভাগ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার কাজে বিঘ্ন ঘটছিল। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত।
তেল সরবরাহ সাপেক্ষে নির্ধারিত এই সময়ে জরুরি সেবা ও সরকারি কর্মকর্তারা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার ওমর ফারু বলেন ‘জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সময় বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তাদের সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। সকালে যারা আসতে পারবেন না, তারা অফিস শেষে সন্ধ্যায় তেল নিতে পারবেন। গণমাধ্যমকর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।’
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিলেও জাজিরায় স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। সংকটের স্থায়ী নিরসনে আরও ফিলিং স্টেশন স্থাপন এবং নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, সাধারণ চালকদের অভিযোগ আলাদা লাইন চালু হওয়ায় জরুরি সেবার পথ সুগম হলেও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমেনি। তারা দ্রুত এই সংকটের একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
প্রতিনিধি/একেবি




