পঞ্চগড়ে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাবসহ আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগে আবু হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসেন মুন্না পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের একটি কক্ষে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এই আদেশ দেন। আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বাদীর অভিযোগ, আসামীর স্বীকারোক্তি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু হোসেন পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের ডুডুমারি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়ে কলেজের পেছনের গলি দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আবু হোসেন তার গতিরোধ করে টাকার বিনিময়ে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করে। এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে যুবককে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর বিকেলে ভ্রাম্যমাণ (সংক্ষিপ্ত) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে এই সাজা প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, ‘লোকটি আপত্তিকর আচরণ করায় আমার মেয়ে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। আমি চাই আর কোনো মেয়ের সাথে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।’
মমতাজ বেগম নামে স্থানীয় এক নারী জানান, ‘মেয়ের চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে আসি। পরে জানতে পারি ওই লোকটা আপত্তিকর আচরণ ও কথা বলেছে। এরপর আমরা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করি।’
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত আবু হোসেন দাবি করেন, ‘আমি হাসপাতালে ওষুধ নিতে এসেছিলাম। যাওয়ার পথে শুধু বলেছি আপু ঘুরতে যাবেন? এছাড়া আর কিছু বলিনি। আমি মাফও চেয়েছি, তবুও আমাকে এত বড় শাস্তি দেওয়া হলো।’
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যারা এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ কাজ করবে, তাদের পরিণতি এমনই হবে।’
প্রতিনিধি/একেবি




