বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দাফন না দাহ? ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধে মরদেহ ঘিরে উত্তেজনা

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

দাফন না দাহ? ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধে মরদেহ ঘিরে উত্তেজনা

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এক ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে ‘মরদেহ দাফন না দাহ করা হবে’ এ প্রশ্নে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, তার মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। মৃত্যুর পর স্ত্রী-সন্তানকে না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহ মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে দাহ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতের স্ত্রী মমতাজ মিম ও ছেলে আব্দুর রহমান। তারা দাবি করেন, কাজী সোহাগ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তাকে দাফন করতে হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।

নিহতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।


বিজ্ঞাপন


মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, মৃত্যুর কারণ নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, ‘ধর্মীয় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই সব পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র যাচাই করে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর