সারাদেশের মতো ফেনীতেও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনীতে এ পরীক্ষায় অংশ নিতে ৫ হাজার ৩৩৪ জন নিবন্ধন করে অংশগ্রহণ করেছে মাত্র ৩ হাজার ৭৮৮ জন। উপস্থিতির হার ছিলো ৭১ দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষায় ফেনীতে ১ হাজার ৫৪৬ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো। অনুপস্থিত থাকার শিক্ষার্থীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ফেনী সদর উপজেলায়। আর উপস্থিতির হারে এগিয়ে ছিলো ফুলগাজী উপজেলা।
জেলা শিক্ষা অফিস জানায়, ফেনী সদর উপজেলায় ১৮৭৭ জন রেজিস্ট্রেশন করে অংশ নেয় ১২২৫ জন। দাগনভূঞা উপজেলায় ৯৯১ জনের মাঝে অংশ নেয় ৭২৫ জন। সোনাগাজীতে ৮৩৯ জনের মাঝে ৬৩০ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬৬০ জনের মাঝে ৪৩৫ জন, পরশুরামে ৪৪৯ জনের মধ্যে ৩৫৩ জন ও ফুলগাজীতে ৫১৮ জন রেজিস্ট্রেশন করে ৪২০ শিক্ষার্থী প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষায় অংশ নেয়। অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর মাঝে ফেনী সদরে ৬৫২, দাগনভূঞায় ২৬৬, সোনাগাজীতে ২০৯, ছাগলনাইয়ায় ২২৫, পরশুরামে ৯৬ জন ও ফুলগাজীতে ৯৮ জন। উপস্থিত পরীক্ষার্থীর হারে তলানিতে ছিলো ফেনী সদর উপজেলায় মাত্র ৬৫.২৬ ভাগ। উপস্থিতির হারে সর্বোচ্চ ছিলো ফুলগাজীতে ৮১.০৮ ভাগ। এছাড়াও ছাগলনাইয়া উপজেলা উপস্থিতির হার ছিলো ৬৫.৯১, দাগনভূঞায়৭৩.১৬, সোনাগাজীতে ৭৫.০৯, পরশুরামে ৭৮.৬২ ভাগ।
বিজ্ঞাপন
ফেনী সদর উপজেলায় ঠিক কি কারণে অধিক সংখ্যক ৩৪ দশমিক ৭৪ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলো এর কোন সুস্পষ্ট কারণ জানাতে পারেনি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ। তবে উপস্থিতি কম থাকার বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ে কমতি থাকাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফেনী সদর উপজেলায় অনুপস্থিতির সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, জেলার অন্যান্য উপজেলায় বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের শিক্ষার্থীরা রেজিস্টেশন মোতাবেক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুপস্থিতির হার বেশি হওয়া উদ্বেগজনক। কারণ এ উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। তেমন কোনো প্রান্তিক জনপদ নেই। শুধুমাত্র শিক্ষা অফিসের প্রয়োজনীয় মনিটরিং কম থাকা ও প্রাথমিক শিক্ষকদের উদাসীনতায় এ সংখ্যা সদর উপজেলায় তলানিতে পড়েছে।
ফেনী সদর উপজেলায় শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভিন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হৃষীকেশ শীল বলেন, জেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষায় ৫ হাজার ৩৩৪ জন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ১ হাজার ৫৪৬ জন অংশ নেয়নি। জেলা এ পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিলো ৭১ শতাংশ। শান্তিপূর্ণভাবে জেলাজুড়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথায়ও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা অথবা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/টিবি




