দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষি প্রযুক্তিতে এক অভিনব চমক দেখিয়েছেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া। একই গাছে ফলছে আলু ও টমেটো—শুনতে অবাক লাগলেও গ্রাফটিং পদ্ধতির সফল প্রয়োগে এ অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন তিনি। ‘পোমাটো’ বা ‘টমালু’ নামে পরিচিত এই উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই এলাকায় কৌতূহল ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, বীরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা এলাকায় নিজ বাসার ছাদ বাগানে টবে পরীক্ষামূলকভাবে এ চাষ শুরু করেন তিনি। শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে, তবে সফল ফলন পাওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ।
বিজ্ঞাপন
রনজিৎ চন্দ্র কীর্তনীয়া জানান, উদ্ভিদ বিজ্ঞানে পড়াশোনার সময় থেকেই এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে বাস্তব প্রয়োগে আলু ও টমেটো গাছের গ্রাফটিং করে তিনি ‘পোমাটো’ উৎপাদনে সফল হন।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, গ্রাফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে আলু ও টমেটো গাছের চারা জোড়া লাগিয়ে ‘টমালু’ বা পমেটো (Pomato) গাছ তৈরি করা হয়। যেহেতু আলু ও টমেটো একই গোত্রভুক্ত (Solanaceae) উদ্ভিদ, তাই এদের মধ্যে গ্রাফটিং সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
ফলস্বরূপ, একই গাছের মাটির নিচে আলু এবং মাটির উপরের ডালে টমেটো উৎপাদন করা যায়। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এই উদ্ভাবন কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। একই গাছে একাধিক ফসল উৎপাদনের ফলে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়, যা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস




