সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নয়, স্রেফ জীবিকা আর প্রয়োজনের তাগিদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাসে চেপেছিলেন ৩০ জন যাত্রী। কেউ যাচ্ছিলেন পেশাগত প্রশিক্ষণে, কেউবা পরিবারের টানে। কিন্তু বুধবারের স্নিগ্ধ সকালটি তাদের জন্য নীলিমা ঘেরা সমুদ্র সৈকত নয়, বরং সীতাকুণ্ডের তপ্ত পিচঢালা মহাসড়কের ধুলোবালি নিয়ে হাজির হলো।
ভাটিয়ারীর বানুর বাজার এলাকায় এসে থেমে গেল চাকা, ফুরিয়ে গেল জ্বালানি। মহাসড়কের পাশে এক অসহায় চালকের হাহাকার আর সহকারী’র হাতে ধরা একটি শূন্য তেলের বালতি এখন সেই ৩০ যাত্রীর অনিশ্চিত গন্তব্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় বারবার জ্বালানি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছিল। বাসের সহকারী একটি বালতি নিয়ে আশপাশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘুরে তেল আনার চেষ্টা করলেও এক ঘণ্টার বেশি সময়েও কোনো সমাধান হয়নি।
বাসের এক যাত্রী ওবায়দুর রহমান জানান, টেকনাফ যাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা ৬টায় বাসে ওঠেন তিনি। পথে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে অল্প অল্প করে তেল নেওয়া হয়। কোথাও ১০ থেকে ২০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হয়নি। এমনকি বেশি তেল পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থও দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাসটি থেমে যায়।
আরেক যাত্রী বলেন, সকালে কক্সবাজারে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাসচালক ওসমান গনি জানান, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে তার বাসে প্রায় ১৬০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়। কিন্তু তিনি যাত্রা শুরু করেন মাত্র ৭০ লিটার তেল নিয়ে। পথে কয়েকটি স্টেশন থেকে সামান্য তেল পেলেও বেশিরভাগ জায়গায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও জ্বালানি মেলেনি। ফলে সীতাকুণ্ডে এসে বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। গন্তব্যে পৌঁছাতে এখনও অন্তত ৬০ লিটার তেল প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যেসব যাত্রীর চট্টগ্রামে নামার কথা ছিল, তাদের কিছু টাকা দিয়ে স্থানীয় যানবাহনে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বাকি যাত্রীদের জন্য বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি




