ছয়টি দিন যমে-মানুষে লড়াই। একপাশে আধুনিক চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা, অন্যপাশে ১০ মাসের একরত্তি প্রাণের বেঁচে থাকার আকুতি। কিন্তু নিয়তির অমোঘ নিয়মে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অবশেষে চিরবিদায় নিল শিশু জাহিদ।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ মার্চ) সকালে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার যখন শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন, তখন আংগারিয়া এলাকার জয়নাল মিয়ার পরিবারে নেমে আসে স্তব্ধতা। যে শিশুটির হাসিতে ঘর মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, আজ সেখানে কেবলই শূন্যতা আর স্বজনদের বুকফাটা হাহাকার।
জাহিদের এই প্রস্থান কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, বরং পুরো শরীয়তপুর জেলায় হামের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাবের এক করুণ সংকেত। গত ৮ এপ্রিল যখন তীব্র জ্বর, কাশি আর শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে জাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তখন থেকেই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল সে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং ছয় দিনের দীর্ঘ লড়াই শেষে পরাজয় মেনে নিতে হয় ১০ মাসের এই শৈশবকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন কক্ষ চালু করা হয়েছে, তবুও থামানো যাচ্ছে না সংক্রমণের ঢেউ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, শরীয়তপুরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৬৯ জন।
বিজ্ঞাপন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করেছেন।
সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন জানান, শিশু জাহিদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেই ফলাফল আসার আগেই সে না ফেরার দেশে চলে গেল। হামের এই সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগ এখন সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার জোর আহ্বান জানাচ্ছে।
প্রতিনিধি/একেবি




