ভোরের আলো ফুটতেই প্রাত্যহিক নিয়ম মেনে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন সত্তরোর্ধ্ব হারুন অর রশীদ খান। কিন্তু সেই সকালের হাঁটাই যে তার জীবনের শেষ পথচলা হবে, তা ছিল কল্পনাতীত। পটুয়াখালীর দুমকি-বাউফল সড়কে এক বেপরোয়া গতির মালবাহী পিকআপের চাপায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল এই অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারের জীবন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দুমকি উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চরবয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশীদ খান যখন সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন, তখন পেছন থেকে আসা দ্রুতগামী একটি পিকআপ তাকে সজোরে চাপা দেয়। প্রাণঘাতী এই ধাক্কার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হারুন অর রশীদের।
এই একই দুর্ঘটনায় মজিবুর রহমান (৪০) নামে এক গার্মেন্টসকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে বাউফল উপজেলার নওয়ালা গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। তবে দুর্ঘটনার পরপরই সুযোগ বুঝে ঘাতক পিকআপের চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ ঘাতক পিকআপটি জব্দ করে হেফাজতে নিয়েছে।
থানা সূত্রে আরও জানা গেছে, পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এক নিমিষেই একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মজীবীর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/একেবি




