অভাবের তাড়নায় সন্তান রেখে উধাও হয়ে যাওয়া মা মুক্তা বেগমকে প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া হলো নগদ অর্থ সহায়তা ও একটি সেলাই মেশিন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মা মুক্তা বেগম ও তার তিন সন্তানকে ডেকে এনে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও এইচডিটির চেয়ারম্যান, কানাডিয়ান প্রবাসী নাসির উদ্দিন হাওলাদার এর সহায়তায় একটি নতুন সেলাই মেশিন তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
বিজ্ঞাপন
এ সহায়তার মাধ্যমে মুক্তা বেগমকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে তিনি নিজের আয় দিয়ে সন্তানদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় চরম দারিদ্র্যের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন অসহায় মা মুক্তা বেগম। তিনটি ছোট শিশু সন্তানকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটানোই ছিল তার নিত্যদিনের বাস্তবতা। স্থানীয়দের জানায়, খাদ্যের অভাবে প্রায়ই তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সহায়তা চাইতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভাবের তীব্র চাপে ভেঙে পড়েন তিনি।
গত বুধবার (৮ এপ্রিল) মুক্তা বেগম সকালে উপজেলা চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে এসে তার তিন শিশু সন্তানকে রেখে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনা হলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাৎক্ষণিকভাবে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনের উদ্যোগে পরবর্তীতে মুক্তা বেগমকে খুঁজে বের করা হয় এবং তার সন্তানদের খাদ্য সহায়তা ও নগদ কিছু টাকা সহ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
উপস্থিত এইচডিটির পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে তার সংগঠন।
জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া ৩৫ হাজার টাকার সঙ্গে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে তার ব্যবস্থা করে এই পরিবারটির জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জিয়ানগর উপজেলা প্রশাসনকে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিনিধি/ এজে




