রাজশাহীতে গভীর রাতে উচ্চশব্দে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরীর কেষ্টগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আরএমপির চন্দ্রিমা থানার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আহত ব্যক্তিরা হলেন নগরীর কেষ্টগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. কামাল উদ্দিন (৬০) ও মো. মুস্তাকিম হোসেন (৪০), রানা মিয়ার ছেলে মো. রাজা আলম (২২), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২৩) ও মো. সিয়াম হোসেন (২০)। এছাড়াও রয়েছেন নওদাপাড়া এলাকার মাহফুজের ছেলে রেদওয়ান (২২) ও হাজির মোড় এলাকার নাজমুল হোসেনের ছেলে মো. নাহিদ হোসেন (২৬)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রিমা থানার কৈচুয়াতৈল এলাকার শাহীনের ছেলে অনিক কেষ্টগঞ্জ বাজার এলাকায় অতিরিক্ত শব্দ করে বেপরোয়াভাবে বাইক চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় ৫-৬ জন ব্যক্তি তাকে বাধা দেন এবং উচ্চশব্দ করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে অনিকের বাগবিতণ্ডা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর অনিক তার বন্ধু রেদওয়ান ও নাহিদসহ আরও ৪-৫ জনকে ডেকে নিয়ে এসে স্থানীয় সাব্বির ও সোহেলের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অনিক ও তার বন্ধুদের ব্যবহৃত ৪টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মূল অভিযুক্ত অনিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও তার দুই বন্ধুসহ মোট ৭ জন আহত হন।
খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভস্মীভূত ৪টি বাইক জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে অনিকের আহত দুই বন্ধু পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে রেদওয়ানকে আটক দেখানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চন্দ্রিমা থানার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
প্রতিনিধি/একেবি




