সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রামুতে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার 
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

শেয়ার করুন:

রামুতে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক আদিবাসী কিশোরী গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিহত কিশোরীর নাম মায়া চাকমা (১৬)। তিনি উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তেলখোলা গ্রামের ক্যউছিং চাকমার মেয়ে।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মায়া চাকমা গত প্রায় এক বছর ধরে রামু উপজেলার পশ্চিম পাড়া মেরংলোয়া গ্রামে সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার মাসখানেক আগে মায়ার সাথে তার বাবার ফোনে কথা হয়। তখন মায়া বেশ স্বাভাবিক ও হাসিখুশি ছিল। বাবা তাকে বাড়ি ফিরতে বললে মায়া জানিয়েছিলেন, পহেলা বৈশাখের আগে বাড়ির মালিক নিজেই তাকে বাড়ি পৌঁছে দেবেন। এই আশ্বাসে তিনি আরও কিছুদিন সেখানে থেকে যান।

গত ১২ এপ্রিল সকালে মায়ার বাবা তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিকেলে মায়ার খালার ফোনে সাধন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে একটি কল আসে। ফোনে শুধু বলা হয়, ‘আপনারা দ্রুত এখানে আসেন’ একথা বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মায়ার মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির লোকজন দাবি করেন, মায়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজনরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, মায়ার শরীরে আত্মহত্যার কোনো সুস্পষ্ট আলামত ছিল না এবং তার আচরণেও কখনো আত্মহননের লক্ষণ দেখা যায়নি। তাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে যে, বাড়ির মালিকের প্রবাসফেরত ছেলে কয়েকদিন আগে দেশে আসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি মায়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।


বিজ্ঞাপন


নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর সাধন বড়ুয়া তাদের মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি পরিবারের আর্থিক দৈন্যদশার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মামলা করলে পুলিশ টাকা ছাড়া কাজ করবে না।’ এর পরিবর্তে তিনি মেয়ের সৎকারের সমস্ত খরচ বহনের প্রস্তাব দেন। গৃহকর্তার এমন আচরণে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিহতের বাবা ক্যউছিং চাকমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর