পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া বাংলাদেশকে সবুজায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আজ আমরা ছেতনাই খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের গেদিপাড়া এলাকায় ছেতনাই নদী খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এসময় মন্ত্রী বলেন, একটা সময় এই খাল জুড়ে পানি ছিল, মাছ ছিল। আমাদের এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের চাষাবাদসহ আমিষের চাহিদা মেটাতো ছেতনাই খাল। বর্তমানে এটা মরা খালে রূপান্তরিত হয়েছে। সময়ের বিবর্তনে সেই ছেতনাই খাল আর খাল নাই, সেই নদী আর নদী নাই। আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে নদীর জায়গায়, খালের জায়গায়, সেখানে আজকে মাটি ভরাট হয়েছে এবং সেখানে পানি অনেক নিচে নামার কারণে আজকে সেখানে পানি নাই বললেই চলে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার, আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল আমরা সরকার গঠন করলে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, জলাশয়, খাল খনন, পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করব। পুনরুদ্ধার করে আমরা বাংলাদেশের আজকে নদীমাতৃক বাংলাদেশ যেখানে হারিয়ে গেছে, যে নদীগুলো, খালগুলো, জলাশয়গুলো আমরা পুনরুদ্ধার করে সেগুলোর পানি সংরক্ষণ করে আমরা সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা এই বাংলাদেশকে আবারও ফলে-ফুলে ভরে তুলব এবং শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে এই খাল খননের মধ্য দিয়ে তার সেই ক্ষণজন্মা পুরুষের অল্প সময়ের ভিতরে উনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন এবং খাদ্য রফতানি করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তারই ধারাবাহিকতায় আজকে শুধু পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নয়, এগ্রিকালচার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আজকে উনি যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সেই পরিকল্পনা প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন আমরা এই খাল পুনঃখনন করছি, জলাশয় পুনঃখনন করছি, নদী পুনঃখনন করছি এবং সেগুলোর জন্য আমরা পাশাপাশি সেখানে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে আছে। আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব। আমরা সেই খালের পাশে মানুষের মাছ চাষ করার ব্যবস্থা করব, এবং মানুষজন সেখানে তাদের হাঁস চাষ করে, ডিম এবং মাংসের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবে। পুষ্টিহীনতা থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে এই ধরনের উদ্যোগ আমরা নিতে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই নদী খনন কাজে প্রায় ১ এক হাজার শ্রমিক সম্পৃক্ত হবে। তাদের কর্মসংস্থান হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন খাল খননের কাজে ৬০ ভাগ যেন শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করা হয়। কারণ সবাইমিলে খনন করলে একদিকে যেমন সবার আন্তরিকতা বাড়বে অন্যদিকে কর্মসংস্থান হবে।
সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ছেতনাই খালের সাড়ে ৫ কিলোমিটার খনন করা হবে। গড় প্রশস্ত সাড়ে ৫ ফিট ও গড় গভীরতা তিন ফিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এলজিইডির কৃষক সমিতির মাধ্যমে এই খনন কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। খননের পরে খালের দুই ধারে ফলজ গাছ লাগানো হবে। এতে ওই এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব পড়বে এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/এসএস




