সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গাইবান্ধায় জব্দ করা বালু লুটের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

গাইবান্ধায় জব্দ করা বালু লুটের অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে উত্তোলন করে জব্দ করা প্রায় ২১ হাজার সিএফটি বালু লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব বালু নিলামে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিলামের জন্য নির্ধারিত বালুর বড় অংশ আগেই সরিয়ে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


বিজ্ঞাপন


‎রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে যায়। নিলামের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জব্দ করা বালুর অধিকাংশই আগেই লুটপাট করা হয়েছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র রাতের আঁধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে অধিকাংশ বালু সরিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবশিষ্ট অল্প পরিমাণ বালু নিলামে বিক্রির উপযোগী না থাকায় প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।

‎স্থানীয়রা জানায়, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নগর কাটগড়া (কন্নাবাড়ি চরঘাট) এলাকায় ঘাঘট নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে একটি চক্র। ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে উত্তোলন করা বালু পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে গত বছরের ১৪ মার্চ ইউএনওর নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদদীন সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করেন। জব্দ করা এসব বালুর পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার সিএফটি। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। পরে বিপুল পরিমাণ এসব বালু বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন এসিল্যান্ড। দীর্ঘদিন ধরে জিম্মায় রাখা এসব বালু স্তূপ করে রাখা হলেও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন

ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে লাইসেন্স নেই ৮ বছর, সিলগালা

‎এদিকে, জব্দ করা এসব বিপুল পরিমাণ বালু প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করতে মাইকিং করে উপজেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী উন্মুক্ত নিলামে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে যান। ইউএনওর পাঠানো পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল পৌঁছান সেখানে। পিআইও মশিয়ার রহমানের নেতৃত্বে নিলাম কার্যক্রমে আসা কর্মকর্তা দেখেন, আগেই লুট করা হয়েছে এসব বালু। পরে নিলাম না করেই ফিরে যান তারা।

‎নিলামের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান জানান, ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করতে এসেছি। কিন্তু আগেই এসব বালু গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করব।

‎এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, জব্দ করা বালু লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর