জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন কমাতে অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলার পাঁচটি উপজেলায় এখন বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার ফলে পাম্পগুলোর চিরচেনা ভিড় যেমন কমেছে, তেমনি গ্রাহকদের মাঝেও ফিরেছে স্বস্তি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। প্রতিটি পাম্পে এখন দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি ‘ট্যাগ অফিসার’।
বিজ্ঞাপন

মোটরসাইকেল আরোহীরা পাম্পে পৌঁছালে ট্যাগ অফিসাররা প্রথমে বাইকের বৈধ কাগজপত্র এবং নম্বর প্লেটের ক্রমিক নম্বর যাচাই করছেন। এরপর সেই তথ্য নির্ধারিত অ্যাপে ইনপুট দেওয়ার পরই মিলছে কাঙ্ক্ষিত তেল। এই প্রক্রিয়ায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী একবারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল নিতে পারছেন। তবে এই পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একবার তেল নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বাইকার পরবর্তী পাঁচ দিন ওই অ্যাপের মাধ্যমে আর কোনো তেল সংগ্রহ করতে পারবেন না। শুধু মোটরসাইকেলই নয়, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রেও কৃষি অফিস থেকে দেওয়া বিশেষ কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদ, মাদরাসা, ব্যাংক বিভিন্ন অফিস বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য ইউএনও অফিসের প্রত্যয়নপত্র প্রদর্শনের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন এবং বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকত। একই বাইকার বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করায় প্রকৃত গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হতেন। কিন্তু অ্যাপভিত্তিক এই কঠোরতার ফলে একজন চালকের একাধিকবার তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পাম্পগুলোতে যেমন শৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তেমনি সাধারণ বাইকাররাও দীর্ঘ সময় লাইনে না দাঁড়িয়ে দ্রুত তেল নিয়ে গন্তব্যে ফিরতে পারছেন। পাম্প মালিকদের দাবি, নতুন এই নিয়মে তেল বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকে ভিড় অর্ধেকের বেশি কমে গেছে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অ্যাপের এই সফল প্রয়োগ জেলার সাধারণ মানুষের মাঝেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন

এমদাদ ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী সুমন আলী বলেন, আমরা ইউএনও অফিসে মিটিং করেছি। ইউএনও অফিস থেকে নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাপসের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রয়ের জন্য। আমরা ৫০০ টাকার করে তেল দিচ্ছি, ৫ দিনের জন্য। আমি মনে করি একজন বাইকারের জন্য এটা এনাফ। এছাড়া আমি শতভাগ নিশ্চিত অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি করলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করি। এছাড়া কৃষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহ সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়ন পত্রের মাধ্যমে যতটুকু বরাদ্দ করছে ততটুকুই তেল প্রদান করছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রয়ে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। এতে গ্রাহক ভোগান্তি অনেকটায় কমেছে। এছাড়া কৃষকদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিতে আমরা প্রত্যায়ন পত্র দিয়ে দিচ্ছি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল সংগ্রহের সময় প্রত্যেক মোটরসাইকেল চালককে অবশ্যই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সঙ্গে রাখতে হবে। পাম্পে তেল নেওয়ার সময় অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের নথিপত্র যাচাই করা হবে।
প্রতিবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে এবং একবার তেল নেওয়ার পর পরবর্তী ৫ দিনের মধ্যে জেলার অন্য কোনো পাম্প থেকে আর তেল নেওয়া যাবে না। যদি কোনো চালক এই সময়ের মধ্যে পুনরায় তেল সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে অ্যাপের মাধ্যমে ওই বাইকটিকে ‘ব্লক’ করে দেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবার আশা করছেন সাধারণ মানুষ।
প্রতিনিধি/এসএস




