নাটোরের গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপকের নামে ডাকযোগ কাফনের কাপড় পাঠিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রহস্যজনক এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ওই কলেজে ডাকযোগের মাধ্যমে দুটি প্যাকেট পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী দুই সহকারী অধ্যাপকরা হলেন- মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ।

কলেজের শিক্ষকরা জানান, গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে প্রতিষ্ঠান চলাকালীন এক পোস্ট কর্মী দুই শিক্ষকের নামে পার্সেল নিয়ে আসেন। প্রতিষ্ঠান সপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধ থাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে দুই শিক্ষক কলেজে এসে জানতে পারেন তাদের নামে পার্সেল এসেছে। তাদের নিজ পার্সেল প্যাকেট খুলে দেখতে পায়, ভাঁজ করা চার টুকরা খণ্ড সাদা কাফনের কাপড়। আনোয়ার হোসেনের পার্সেলের প্যাকেটের গায়ে প্রেরকের নাম লেখা ছিল লিখন হোসেন এবং আব্দুস সামাদের প্যাকেটের লেখা ছিল জনি আহমেদের নাম। দুই পার্সেলে ঠিকানা দেওয়া ছিল সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উল্লেখ ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিক শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ ও আনোয়ার হোসেনের জানান, হঠাৎ এমন ঘটনায় আমরা শঙ্কিত। আমাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে তা বিশ্বাস করতে পারছি না। সন্দেহজনক এমন কাউকে চিহ্নিত করতে পারছি না। এ কাজটি করতে পারে ধারণাও নেই। এ ঘটনায় কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ তদন্ত করছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন জানান, দুই শিক্ষকের নামে কাফনের কাপড় পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ তদন্ত করছে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করবে শৃঙ্খলা বাহিনী।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে কাফনের কাপড়গুলো জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে।
প্রতিনিধি/এসএস




