শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কুষ্টিয়ায় ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার, ধর্ষণ মামলায় দফতরি গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

কুষ্টিয়ায় ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার, ধর্ষণ মামলায় দফতরি গ্রেফতার
অভিযুক্ত স্কুলের দফতরি হামিদুল ইসলাম।

কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার একটি স্কুল থেকে অচেতন অবস্থায় এক শিশুকে (১১) উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার ১০ এপ্রিল রাতে স্কুলের দফতরি হামিদুল ইসলামকে আসামি ক‌রে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর থানা হেফাজতে থাকা দফতরি হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

শিশুটি মিরপুর উপজেলার স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও ছিল। বেলা ৩টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও পরিবার শিশুটিকে খুঁজে পাচ্ছিল না। একপর্যায়ে শিশুটির পরিবারের কয়েকজন সদস্য স্কুলে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে খুঁজে দেখতে বিদ্যালয়ের দফতরি অনুরোধ করেন। তিনি (দফতরি) কোনো কর্ণপাত না করে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে শ্রেণিকক্ষগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। নিচতলার তালা খুলে ওপরে গিয়ে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। আরেক তলাতে গিয়ে মেয়েটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। ঘটনার পর স্কুলের দফতরি ও নৈশপ্রহরী থানা হেফাজতে নেই পুলিশ।

আরও পড়ুন

সোনারগাঁয়ে ২৮ মামলার আসামি ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা রক্সি’ গ্রেফতার

তবে এ বিষয়ে ভুক্ত‌ভোগী শিশুটির কাছে জানতে চাইলে  বলে, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে অসুস্থবোধ করলে ভেতর থেকে বের হয়ে বাইরে এসে পড়লে বসেছিলাম। এরপর সিঁড়িতে অচেতন হয়ে পড়ি। এরপর আর কিছু বলতে পারেনি।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার সুষ্মিতা বিশ্বাস বলেন, মেয়েটির শরীরের কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে থানা করা হচ্ছে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হতে পারে। পুরোটা নিশ্চিত হতে কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মেয়েটি তেমন কথা বলছে না। ট্রমার মধ্যে রয়েছে বেশ খানিক, দুর্বল, হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় স্কুলের দফতরি‌কে আসামি করে ভুক্ত‌ভোগীর মা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। দফতরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তা‌কে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর