বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হাতির পিঠে চড়ে যুবকের বরযাত্রা, কনে ফিরলেন ঘোড়ার গাড়িতে

জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট 
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

হাতির পিঠে চড়ে যুবকের বরযাত্রা, কনে ফিরলেন ঘোড়ার গাড়িতে

প্রাচীনকালে রাজা-বাদশাহরা হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যেতেন। সেই রাজপ্রথা আর রাজকীয় আভিজাত্য এখন সুদূর অতীত। তবে বর্তমান সময়েও মাঝে মাঝে শখের বশে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর শোনা যায়। এবার শ্বশুরের শখ পূরণে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে এলেন বর, আর কনে শ্বশুরবাড়িতে গেলেন ঘোড়ার গাড়িতে। এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায়।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই আলোচিত বিয়েটি পুরো জেলায় সাড়া ফেলে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে এমন রাজকীয় আয়োজনের কথা সচরাচর শোনা যায় না বলে জানান স্থানীয়রা।


বিজ্ঞাপন


বরের নাম মো. ফারহান ফয়সাল (২৮)। তিনি সদর উপজেলার চকমোহন গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বর্তমানে বিমান বাহিনীতে কর্মরত। কনে মোসা. ফারহানা আক্তার (২৬) সদর উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল সোনার পাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।

জানা গেছে, কনের বাবা দুলাল হোসেনের দীর্ঘদিনের শখ ছিল ছোট মেয়ে ফারহানার বিয়ের সময় জামাই হাতির পিঠে চড়ে আসবে এবং মেয়ে বিদায় নেবে ঘোড়ার গাড়িতে। শ্বশুরের সেই শখ পূরণ করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে হাতির পিঠে চড়ে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন ফারহান ফয়সাল।

বরের বাড়ি থেকে কনের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই পথে রাস্তার দুই পাশে হাতি ও বরকে দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুরোনো দিনের এই ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিকেলের দিকে বরযাত্রীদের গাড়িবহরসহ বর কনের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানেও ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় কনেকে নিয়ে বর ঘোড়ার গাড়িতে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় কনের বাড়িতে আশপাশের গ্রামের নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।


বিজ্ঞাপন


কনে ফারহানা আক্তার বলেন, ‘আমার বিয়েতে বর হাতির পিঠে চড়ে এসেছেন আর আমি শ্বশুরবাড়িতে ফিরছি ঘোড়ার গাড়িতে। এটি আমার জীবনের এক অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

বর ফারহান ফয়সাল জানান, ছোটবেলায় বাবার কাছে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার গল্প শুনে তারও এমন স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। শ্বশুর এবং নিজের সেই যৌথ ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

বরের বাবা ফজলুর রহমান জানান, বিয়াইয়ের শখ পূরণ করতেই এই বিশেষ আয়োজন। প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকায় হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে আনা হয়েছে।

Joypur-hat

কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, ‘মার ইচ্ছে ছিল ছোট মেয়ের বিয়েতে ব্যতিক্রমী কিছু করার। সেই ভাবনা থেকেই এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির আয়োজন। দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে খুব আনন্দ করেছি। সবাই নবদম্পতির জন্য দোয়া করবেন।’

 প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর