বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নীলফামারীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, ২৪ ঘণ্টাতেই উঠছে কার্পেট

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

নীলফামারীতে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, ২৪ ঘণ্টাতেই উঠছে কার্পেট

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের একটি সড়ক সংস্কার কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এমন দায়সারা ও নিম্নমানের কাজে ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২০০ মিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জামাল হোসেন’।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে কার্পেটিংয়ের প্রলেপ এতটাই পাতলা যে তা সামান্য হাতের চাপেই উঠে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার ওপর জমে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার না করেই তার ওপর পিচ ও পাথর ঢেলে কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া পুরোনো সড়কের পাথর ও খোয়া ঠিকমতো বিন্যস্ত না করে নামমাত্র মালামাল ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সড়কের দুই পাশে কোনো ‘এজিং’ (ইটের নিরাপত্তা সীমানা) দেওয়া হয়নি। ফলে হালকা বৃষ্টি বা যানবাহনের চাপে রাস্তার দুই পাশ ভেঙে নালার মধ্যে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চলাচলের পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ার ভয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

তবে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান, ‘যেকোনো নির্মাণ বা সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা পর্যবেক্ষণের জন্য ১২ মাস সময় থাকে। এই সময়ের মধ্যে রাস্তার কোনো ক্ষতি বা ত্রুটি ধরা পড়লে ঠিকাদার নিজ খরচে তা মেরামত করতে বাধ্য থাকেন। ঠিকাদারের সিকিউরিটি মানি বা জামানতের অর্থ আমাদের কাছে জমা আছে। কাজ শতভাগ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। তাই এখানে অনিয়ম করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’


বিজ্ঞাপন


প্রকৌশলীর এই আশ্বাসে স্থানীয়রা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এখনই তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় মানসম্মতভাবে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হোক।

প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর