ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানার পরিত্যক্ত ঝুট কাপড়ের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালের এই সহিংসতায় এক মাদরাসা ছাত্রসহ অন্তত দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও আটজন।
বিজ্ঞাপন
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ফতুল্লার পঞ্চবটী এলাকার ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট’ গার্মেন্টসের সামনে এই সংঘর্ষ চলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সারজিল আহমেদ অভি এবং ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ গ্রুপের সমর্থকরা দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়।
সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গুলি ও বোমার শব্দে আমরা ভয়ে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। রাজপথে এভাবে প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া আমরা আগে দেখিনি।’
আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্র ইমরান হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার বাবা আসমাউল হোসেন জানান, পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমরানের বুকের নিচে গুলি লাগে। তাকে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি রাকিব (২২) স্থানীয় বিএনপি নেতা খোকা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিল জেলা যুবদলের একটি পক্ষের হাতে। সম্প্রতি অন্য একটি পক্ষ সেখানে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।
বিজ্ঞাপন
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘর্ষ একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকের এই ঘটনা সেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়েরই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/একেবি




